এবার ওসির ‘বাবা-মা’ তুলে বেলাগাম আক্রমণ নাওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,বহরমপুর: বিতর্ক যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না মুর্শিদাবাদের নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের। তাঁর সাম্প্রতিক ‘স্যাটাভাঙা মার’ মন্তব্যের জেরে পুলিশি তলবের মুখে পড়ে এবার সরাসরি শক্তিপুর থানার ওসি-কে বাবা-মা তুলে বেনজির আক্রমণ করলেন তিনি। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই জেলার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
গত কয়েকদিন ধরে তাঁর একের পর এক হুঁশিয়ারির জেরে শক্তিপুর ও রেজিনগর— দুই থানা থেকেই বিধায়কের কাছে হাজিরার নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। শুক্রবারই শক্তিপুর থানায় তাঁর হাজিরা দেওয়ার কথা থাকলেও, তিনি যে যাবেন না তা আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন। এদিন হাজিরা এড়ানোর পাশাপাশি ওসির বিরুদ্ধে অত্যন্ত কুরুচিকর মন্তব্য করেন হুমায়ুন।
ওসির ‘বাবা-মা’ তুলে চরম আক্রমণ
এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শক্তিপুর থানার ওসির উদ্দেশ্যে তীব্র আক্রমণ শানান বিধায়ক। তিনি বলেন: “ওসি যেখানে যাচ্ছে সেখানেই বলছে আমার বাপ এসেছে! আজ যাচ্ছি না। তবে আমি এসপি-কে জানিয়ে শক্তিপুর থানায় হাজির হব, আমার নতুন বাবার সঙ্গে দেখা করতে যাব! প্রয়োজনে মাকে নিয়ে যাব। তার স্বামীকে চিনতে পারে কিনা দেখব!”
ওসির পরিবারকে টেনে এমন বেলাগাম আক্রমণের পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনকে প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি দিয়ে হুমায়ুন কবীর আরও জানান, “আগামিকাল রেজিনগর থানায় হাজিরা দিতে যাব। জমায়েত করে হাজিরা দিতে যাব। এক হাজার লোক নিয়ে যাব। আমাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেলে আমার সঙ্গে এক হাজার লোক যাবে।”
কী ছিল সেই বিতর্কিত ‘স্যাটাভাঙা মার’ মন্তব্য?
এই গোটা বিতর্কের সূত্রপাত গত শুক্রবার রেজিনগরের কাশীপুর এলাকার একটি জনসভা থেকে। সেখানে দাঁড়িয়ে হুমায়ুন কবীর বিরোধীদের উদ্দেশ্যে কড়া ভাষায় বলেছিলেন, “বিজেপি জিতেছে, সরকার গড়েছে, ভালো কথা। কিন্তু মুর্শিদাবাদে হেরেও দু-একজন এমন আস্ফালন দেখাচ্ছেন যেন তাঁরাই বিধায়ক। এই আস্ফালনটা কমান। আমি যখন মুসলমানদের জড়ো করে করে স্যাটাভাঙা মার শুরু করব না, পালানোর পথ পাবেন না।” মামলার ভয়কে উড়িয়ে দিয়ে সেবার তিনি বলেছিলেন, “কেস হবে? ওরকম কেস আমাদের বিরুদ্ধে অনেক আছে।”
এরপর শক্তিপুরের একটি সভা থেকেও শক্তিপুর থানার ওসির উদ্দেশ্যে সরাসরি উসকানি দিয়ে তিনি বলেছিলেন, “ভোটের আগেরদিন আমার ভাইপোকে গ্রেপ্তার করেছেন ওসি। তাঁকে আগে দেখব। তারপর ওর বাবাকে দেখব। ১০ হাজার লোক নিয়ে থানা ঘিরে থানা থেকে একে বের করব। পারলে রুখে দেখান।”
কড়া অবস্থান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর, তৎপর পুলিশ
বিধায়কের এই উসকানিমূলক ও সাম্প্রদায়িক মন্তব্যের জেরে বিধানসভায় তাঁকে একহাত নেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পরেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। হুমায়ুনের সেই সভার তিন আয়োজককে তৎক্ষণাৎ গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর গত মঙ্গলবার সকালে খোদ বিধায়কের বাড়িতে পৌঁছে যায় পুলিশ বাহিনী এবং দুটি পৃথক মামলায় হাজিরার জন্য নোটিশ ধরানো হয়।
তবে মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি বা পুলিশের জোড়া নোটিশ— কোনো কিছুতেই যে রেজিনগরের হেভিওয়েট বিধায়ক দমতে নারাজ, ওসির বিরুদ্ধে তাঁর মঙ্গলবারের এই বক্তব্যই তার প্রমাণ। এই মন্তব্য ঘিরে এখন জল কতদূর গড়ায়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
