টিকিটাকার ঝড়ে উড়ে গেল অস্ট্রিয়া: ৩-০ জিতে দুর্বার গতিতে শেষ ষোলোয় স্পেন
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- ‘লা রোহা’দের ফুটবলীয় অহংকারের সামনে দাঁড়াতেই পারল না অস্ট্রিয়া। ৪৪ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউটে ফেরার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেও ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত রালফ রাংনিকের দল। লস অ্যাঞ্জেলেসে টিকিটাকার জাদুতে মাতালেন ইয়ামাল, ওয়ারসাবাল, পেদ্রোরা। মিকেল ওয়ারসাবালের জোড়া গোল আর পেদ্রো পোরোর এক গোলে দুর্বার গতিতে শেষ ষোলো নিশ্চিত করল লুইস দে লা ফুয়েন্তের স্পেন।
১৯৭৮ বিশ্বকাপে স্পেনকে ২-১ হারিয়েছিল অস্ট্রিয়া। প্রায় পাঁচ দশক পর সেই ইতিহাস ফেরানোর স্বপ্ন দেখেছিল তারা। কিন্তু মাঠে নামতেই বোঝা গেল, এই স্পেন আলাদা। কিংবদন্তি স্প্যানিশ নাইট ডন সুয়েরো দ্য প্রাউডের মতোই অপরাজেয় লাগল ইয়ামাল, বায়েনা, ওয়ারসাবালদের। কেপ ভার্দের সঙ্গে ড্র দিয়ে শুরু করলেও সৌদি আরবকে ৪-০ আর উরুগুয়েকে ১-০ হারিয়ে ছন্দে ফিরেছিল স্পেন। অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে দেখা গেল আসল স্প্যানিশ ফুটবল। বল পায়ে রাখা, নিখুঁত পাস, চোখ ধাঁধানো টিকিটাকা। দ্বিতীয় মিনিটেই পালটা আক্রমণে সুযোগ তৈরি করেন ইয়ামাল। তাঁর শট সরাসরি গোলরক্ষকের হাতে। প্রথমদিকে কনরাড লাইমার ইয়ামালকে আটকে রাখার চেষ্টা করলেও লাভ হয়নি। ১৮ মিনিটে মার্সেল সাবিৎসারের ক্রসে মাথা ছোঁয়াতে পারলে এগিয়ে যেতেই পারত অস্ট্রিয়া। ২৮ মিনিটে খোলস ছেড়ে বেরোয় স্পেন। দানি ওলমো ফাঁকায় বল পেয়েও স্টেফান পসের ট্যাকলে গোল পাননি। এরপর ইয়ামালের কর্নার থেকে মার্ক কুকুরেয়া বল জালে জড়ালেও গোলরক্ষককে ফাউলের জন্য বাতিল হয় গোল। ৩৩ মিনিটে ওলমোর জোরাল শট বাঁচান আলেকজান্ডার শ্লাগার। কিন্তু ৩৬ মিনিটে আর রুখতে পারেননি। কুকুরেয়ার নিখুঁত কাটব্যাক থেকে ঠান্ডা মাথায় ১-০ করেন মিকেল ওয়ারসাবাল। বিরতির আগে ফ্রিকিক থেকে বায়েনার শট ক্রসবারে লাগে। ফিরতি বলে ইয়ামালের শট অবিশ্বাস্য দক্ষতায় বাঁচান শ্লাগার।
দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের রাশ পুরোপুরি স্পেনের হাতে। ৪৯ মিনিটে ওয়ারসাবালের শট কোনওমতে ঠেকান শ্লাগার। ৫৩ মিনিটে রদ্রির দূরপাল্লার শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট। ৬০ মিনিটে আরনাউটোভিচ ও কালাইজডজিচকে নামায় অস্ট্রিয়া। কালাইজডজিচ প্রথম ছোঁয়াতেই গোলের কাছে চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু ৬৬ মিনিটে ম্যাচ শেষ করে দেয় স্পেন। বাঁ-দিক থেকে অ্যালেক্স বায়েনার ক্রসে জোরাল শটে ২-০ করেন পেদ্রো পোরো। এরপরও আক্রমণের ঝড় থামেনি। ৮৫ মিনিটে ইয়ামালের শট গোললাইন থেকে ফেরান ডিফেন্ডার। ৮৯ মিনিটে কুকুরেয়ার ডিফেন্স-চেরা পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোল করেন ওয়ারসাবাল। ভাগ্য সহায় থাকলে ৫-০ হতে পারত স্কোরলাইন।
টিকিটাকা, গতি আর নিখুঁত ফিনিশিং— স্পেন বুঝিয়ে দিল কেন তারা ফেভারিট। ৪৪ বছর পর নকআউটে ফেরা অস্ট্রিয়ার স্বপ্ন ভাঙল ‘লা রোহা’দের পায়ে। ডন সুয়েরোর মতোই অপ্রতিরোধ্য লাগছে এই স্পেনকে। ইয়ামালের ড্রিবল, পেদ্রোর নিয়ন্ত্রণ, ওয়ারসাবালের গোলের খিদে— সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে নতুন করে নিজেদের জানান দিল লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। শেষ ষোলোয় তারা যে আরও ভয়ঙ্কর হবে, তা বলাই বাহুল্য।
