গ্রেপ্তার ১০৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূলের একের পর এক কাউন্সিলরদের শ্রীঘরে যাওয়ার সিলসিলা অব্যাহত। এবার সার্ভে পার্ক থানার পুলিশের জালে ধরা পড়লেন কলকাতা পুরসভার ১০৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর তথা বোরো ১১-এর প্রাক্তন চেয়ারম্যান তারকেশ্বর চক্রবর্তী। তোলাবাজি, মারধর, শ্লীলতাহানির চেষ্টা এবং ভেড়ি দখল-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে গতকাল গভীর রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ, শনিবার তাঁকে আলিপুর আদালতে পেশ করা হবে।
অভিযোগের পাহাড় প্রাক্তন বোরো চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে
তৃণমূল রাজ্যে ক্ষমতায় থাকাকালীন তারকেশ্বর চক্রবর্তী এলাকায় ব্যাপক দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছিলেন বলে অভিযোগ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তাঁর বিরুদ্ধে প্রধানত যে অভিযোগগুলি রয়েছে সেগুলি হলো:
-
এলাকার বিভিন্ন ভেরী জোরপূর্বক দখল এবং মোটা টাকা আত্মসাৎ।
-
দলবল নিয়ে এলাকায় সিন্ডিকেট ও লাগামছাড়া তোলাবাজি চালানো।
-
পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র, মারধর, জোর করে আটকে রাখা এবং ভয় দেখানো।
-
এক মহিলার শ্লীলতাহানির চেষ্টা।
এই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতে সার্ভে পার্ক থানায় একটি সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করা হয়েছিল। দীর্ঘ তদন্তের পর গতকাল রাতে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। ধৃত প্রাক্তন কাউন্সিলরের আয়ের উৎস এবং তাঁর কোনো বেআইনি সম্পত্তি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই নজরদারি শুরু করেছে প্রশাসন। এই চক্রে আর কারা জড়িত, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
‘চোর ছাড়া একটাও লোক নেই’, তীব্র কটাক্ষ বিজেপির
এই ঘটনা সামনে আসতেই তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন বিজেপি সাংসদ রাহুল সিনহা। তিনি কটাক্ষ করে বলেন: “তৃণমূল কংগ্রেসে চোর ছাড়া একটাও লোক নেই। এখানে নতুনদের চুরি বিদ্যা শেখানো হয়। চুরির ভাগ ওপর তলায় দেওয়ার জন্যই এই লাগামছাড়া দুর্নীতি হয়েছে। এতকাল দুর্নীতি করলেই সাত খুন মাফ ছিল, এটাই তৃণমূলের আসল নীতি। আগামী দিনে আরও অনেক দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূল নেতা জেলে যাবেন।”
ধৃতের তালিকায় আরও এক: ধুলিয়ানে গ্রেপ্তার তৃণমূল কাউন্সিলর
শুধু কলকাতাই নয়, জেলাতেও কাটমানি ও দুর্নীতির অভিযোগে পুলিশি তৎপরতা জারি রয়েছে। আবাস যোজনার সরকারি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সারিফ হাড্ডিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দিনকয়েক আগে এলাকারই বেশ কয়েকজন মহিলা তাঁর বিরুদ্ধে কাটমানি নেওয়া ও টাকা আত্মসাতের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পদক্ষেপ করল পুলিশ।
