Delhi Crime: ‘বাবা আমাকে বাঁচাও’ দিল্লিতে ধর্ষণ করে খুনে, এটাই ছিল কিশোরীর শেষ আর্তি, গ্রেফতার অভিযুক্ত
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা: ফুটপাথেই ছিল সংসার। সকাল থেকে রাত এখানেই খেলে বেড়াত মেয়েটি। পরিবার হতদরিদ্র। বাবা দিনমজুর আয় ছিল না। নৃশংস ঘটনার সাক্ষী থাকল দিল্লি। ১০ বছরের শিশুটি পরিবারে সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিল এই ফুটপাথের রাস্তার উপরেই। ঘড়িতে তখন ভোর ৪.১৫ মিনিট। আলো আঁধারির মধ্যে ভোর হতে শুরু করেছে। আকাশ ধীরে ধীরে পরিষ্কার হচ্ছে। সেই সময় চত্তরপুর মেট্রো স্টেশনের কাছে ফুটপাথ থেকে কিছুটা দূরে দাঁড়ায় একটি সাদা রঙের চার চাকার গাড়ি। আশেপাশের মানুষগুলি তখনও ঘুমিয়ে আছে। গাড়িটি এসে দাঁড়ায়। গাড়িটি থেকে চালক নামে। বাচ্চাটির মুখে কোনও কাপড় চাপা দেয়, যাতে চিৎকার করতে না পারে। প্রাণপণে চেঁচিয়ে ওঠে শিশুটি। কোনও রকমে সে বলে ওঠে ‘বাবা আমাকে বাঁচাও’। শিশুটিকে তুলে নিয়ে যায় তারা। শিশুটিকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে খুন করা হয় বলে অভিযোগ।
দক্ষিণ মেহরৌলির একটি জঙ্গল থেকে পাথর চাপা অবস্থায় শিশুটির দেহ উদ্ধার করা হয়। দিল্লির নৃশংস ঘটনায় একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য পুলিশের হাতে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার পরে অভিযুক্তকে চিহ্নিত করা হয়। অভিযুক্তের নাম ও পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পকসো (POCSO) আইন ও ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে খুনের আগে যৌন নির্বাযন চালানোর প্রমাণ মিলেছে। অভিযুক্ত গাড়িচালক বাসুকুমার সিংকে পশ্চিম দিল্লির বিকাশপুরীতে মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
গ্রেফতারের পরেও অভিযুক্তকে দেখেও বেশ স্বাভাবিকই মনে হচ্ছিল। তার আচরণে কোনও অস্বাভাবিক আচরণ ধরা পড়েনি। পুলিশ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, বিহারের বাসিন্দা বাসু সিং। তার পরিবারও সেখানেই থাকে। অপরাধটি করার আগে গাঁজা সেবন করেছিল বলে অভিযোগ। পুলিশি জেরায় বার বার বয়ান বদল করেছে অভিযুক্ত। একবার সে বলে, ফতেহপুর বেরির কাছে গাড়ির ভেতরেই সে শিশুটিকে নির্যাতন করেছিল। পরে দাবি করে, সে গাড়ি চালিয়ে ফরিদাবাদ-গুরুগ্রাম সড়কের পাশে একটি জঙ্গলঘেরা এলাকায় গিয়েছিল। সেখানে সে শিশুটিকে ধর্ষণ করে। কাপড় দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং শিশুটিকে পাথর দিয়ে আঘাত করে। এই ঘটনায় মেহরৌলি এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অপরাধীর কঠোরতম শাস্তির দাবি তুলে পথে নেমেছে।
