গৃহবধূকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে খুন
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, হাওড়া: রবিবার ভরসন্ধেয় হাওড়ার শিবপুরে ঘটে গেল এক হাড়হিম করা হত্যাকাণ্ড। বাড়ির সদর দরজায় দাঁড়িয়ে ফোন করে ডেকে, দোতলা থেকে নীচে নামিয়ে এক গৃহবধূকে পরপর ধারালো অস্ত্রের কোপ মেরে খুন করার অভিযোগ উঠল অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। এই নৃশংস ঘটনার জেরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শিবপুরের ওলাবিবিতলার ফার্স্ট বাই লেন এলাকায়। মৃত মহিলার নাম ভারতী হাজরা (৪০)। ধারের টাকা শোধ করাকে কেন্দ্র করে এই খুন বলে প্রাথমিক অনুমান পুলিশের।
ঠিক কী ঘটেছিল রবিবার সন্ধ্যায়?
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বিশেষ প্রয়োজনে কাসুন্দিয়া শিবতলার বাসিন্দা এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন ভারতীদেবী। মৃতার স্বামী সুব্রত হাজরার দাবি, সেই ধারের টাকা সময়মতো কিস্তিতে শোধও করা হচ্ছিল। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে পুরো টাকা একসঙ্গে শোধ করার জন্য ওই দম্পতির ওপর মারাত্মক মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। এমনকি বারবার লোক পাঠিয়ে খুনের হুমকিও দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ। রবিবার সন্ধের দিকে ওলাবিবিতলা এলাকায় দুটি মোটরবাইকে করে ৪ জন সন্দেহভাজন যুবককে ঘোরাঘুরি করতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ, তাদের মধ্য থেকেই একজন ফোন করে ভারতীদেবীকে নীচে নামতে বলে। সেই সময় তিনি নিজের ঘরের কাজ করছিলেন।
স্বামীর চোখে দেখা সেই ভয়ঙ্কর মুহূর্ত:
মৃতার স্বামী সুব্রত হাজরা জানান, “রবিবার সন্ধের দিকে একজন যুবক ফোন করে আমার স্ত্রীকে নীচে নামতে বলে। ফোন পেয়ে স্ত্রী নীচে নামার কিছুক্ষণ পর কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে আমি নীচে যাই। গিয়ে দেখি, ও রক্তাক্ত অবস্থায় সিঁড়ির চাতালে পড়ে আছে। গলায় ধারালো অস্ত্রের গভীর কোপ ছিল। ইশারা করে জল খেতে চাইছিল, জল এনে মুখে দিতেই আমার কোলেই ঢলে পড়ল ও।”
তদন্তে পুলিশ:
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় শিবপুর থানার পুলিশ ও হাওড়া সিটি পুলিশের পদস্থ কর্তারা। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থল থেকে রক্তের নমুনা এবং রক্তমাখা মাটি সংগ্রহ করেছেন। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে হাওড়া সিটি পুলিশের এক পদস্থ কর্তা বলেন, “ঘটনার তদন্তে নেমে আমরা বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পেয়েছি। তবে ঠিক কী কারণে এই খুন, তা এখনও সম্পূর্ণ পরিষ্কার নয়। ধারের টাকার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এলাকার ও রাস্তার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে খুনিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।” ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
