উলট পুরাণ: এবার মিমির বিরুদ্ধে পালটা মামলা তনয় শাস্ত্রীর
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, উত্তর ২৪ পরগণা:- বনগাঁয় একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হেনস্তার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ আইনি টানাপোড়েনের পর এবার টলিউড অভিনেত্রী ও প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ মিমি চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে পালটা মামলা দায়ের করলেন জ্যোতিষী তনয় শাস্ত্রী। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বনগাঁর নয়া গোপালগঞ্জে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মিমি চক্রবর্তী দেরি করে পৌঁছানোয় অনুষ্ঠানের আয়োজক ও ক্লাব কর্তা তনয় শাস্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বাদানুবাদ হয়। সেই ঘটনায় মিমি চক্রবর্তী থানায় হেনস্তার অভিযোগ জানালে পুলিশ তনয় শাস্ত্রীকে গ্রেফতার করে এবং তিনি জেল হেফাজতে ছিলেন। পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে তনয় শাস্ত্রী দাবি করেন, তৎকালীন রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাঁকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল।
সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তনয় শাস্ত্রী জানান, তিনি গত ১১ জুন বনগাঁ থানায় অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে নতুন করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর অভিযোগ, মিমি চক্রবর্তী অনুষ্ঠানে চুক্তি অনুযায়ী সঠিক সময়ে পৌঁছাননি, যার ফলে আয়োজকদের চরম অসুবিধার মুখে পড়তে হয়। তনয় শাস্ত্রীর দাবি, ওই ঘটনায় তাঁর সামাজিক সম্মানহানি হয়েছে, যার প্রেক্ষিতে তিনি পারিশ্রমিকের অর্থ ফেরত পাওয়ার পাশাপাশি ২০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন। এছাড়াও, মিমি চক্রবর্তীর করা হেনস্তার অভিযোগকে ‘মিথ্যে’ বলে অভিহিত করে তাঁকে জনসমক্ষে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বনগাঁ আদালতে আগে করা মামলাটি তিনি তুলে নেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন এবং এবার সরাসরি থানার মাধ্যমেই আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
তনয় শাস্ত্রী আরও অভিযোগ করেন যে, সেই সময় সমস্ত ভিডিও প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তৎকালীন পুলিশ আধিকারিকরা তাঁর অভিযোগ গ্রহণ করেননি। বর্তমানে রাজ্যে পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর তিনি নতুন করে ন্যায়বিচারের আশায় পুলিশ সুপার ও বনগাঁ থানার দ্বারস্থ হয়েছেন। এই নতুন আইনি পদক্ষেপের ফলে অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীকে বনগাঁ আদালতে হাজিরা দিয়ে জামিন নিতে হতে পারে বলেও দাবি করেছেন তিনি। তবে এই মামলা ও অভিযোগের বিষয়ে মিমি চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ মহল থেকে জানানো হয়েছে যে, এ ধরনের কোনো তথ্যের বিষয়ে তারা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নন। বনগাঁ পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তনয় শাস্ত্রীর দায়ের করা অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে।
