৮৭ দিনের মাথায় ভাঙড় বিস্ফোরণকাণ্ডে চার্জশিট জমা দিল NIA
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,ভাঙড়:- ভাঙড় বোমা বিস্ফোরণ মামলায় আরও কোণঠাসা ধৃত তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লা। গ্রেফতারির ৮৭ দিনের মাথায় বিশেষ আদালতে এই মামলার প্রথম চার্জশিট জমা দিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ । আর সেই চার্জশিটেই শওকত মোল্লাকে এই বিস্ফোরণকাণ্ডের ‘মূল পরিকল্পনাকারী’ বা মাস্টারমাইন্ড হিসেবে উল্লেখ করেছেন তদন্তকারীরা। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের মুখে ভাঙড়ের এই হাইপ্রোফাইল মামলার চার্জশিট জমা পড়তেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
NIA-র চার্জশিটে কী দাবি করা হয়েছে?
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে ভাঙড় এলাকায় বড়সড় নাশকতার ছক কষা হয়েছিল। সেই উদ্দেশ্যে বোমা তৈরির সময় আচমকাই একটি দেশি বোমার শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। ওই ঘটনায় বোমা তৈরির কাজে যুক্ত এক ব্যক্তির ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় এবং আরও কয়েকজন গুরুতর জখম হন। ঘটনার তদন্তভার হাতে নেওয়ার পর থেকেই গোয়েন্দাদের আতসকাচের তলায় ছিলেন এই প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা।
এনআইএ আদালতে জানিয়েছে, এই মামলায় এখনও পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যার মধ্যে শওকত মোল্লাই ছিলেন মূল চক্রী। তাঁর সরাসরি নির্দেশ ও পরিকল্পনাতেই বাকি অভিযুক্তরা ওই এলাকায় বসে বোমা তৈরির কাজ করছিল।
মোবাইল থেকে মিলল বিস্ফোরক তথ্য:
তদন্তকারীদের আরও দাবি, বিস্ফোরণ ঘটে যাওয়ার পর পরিস্থিতি ধামাচাপা দিতে এবং তথ্যপ্রমাণ লোপাট করতে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন শওকত। ধৃত তৃণমূল নেতার মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করার পর সেখান থেকে একাধিক চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে এসেছে এনআইএ-র। বিস্ফোরণের ঠিক পরপরই শওকত মোল্লা ফোন ও মেসেজের মাধ্যমে অনুগামীদের একাধিক নির্দেশ পাঠিয়েছিলেন। বিস্ফোরণস্থলের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কীভাবে পরিচালনা করতে হবে এবং পুলিশের নজর থেকে কীভাবে বাঁচতে হবে, সেই সমস্ত নির্দেশই তিনি দিয়েছিলেন বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাড়ি হানা ও নাটকীয় গ্রেফতারি:
উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতেই ভাঙড় বিস্ফোরণকাণ্ডের তদন্তে শওকত মোল্লার বাড়িতে হানা দিয়েছিল এনআইএ-র একটি বিশেষ দল। কিন্তু সেই সময় বাড়িতে তাঁর খোঁজ মেলেনি। এরপর তৃণমূল নেতার ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় রাতভর তল্লাশি চালায় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। অবশেষে দু’দিনের মাথায় সোনারপুরের কামালগাজী লাগোয়া এলাকা থেকে শওকতকে গ্রেফতার করা হয়। যদিও পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, শওকত নিজেই আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছিলেন এবং সেই পথেই তাঁকে গ্রেফতার করে এনআইএ।
তীব্র রাজনৈতিক তরজা:
ভোটের মুখে ভাঙড়ের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, নির্বাচনকে প্রভাবিত করতেই ভাঙড়ে বোমাবাজির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। অন্যদিকে, তৃণমূল শিবিরের একাংশের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করা হচ্ছে। এখন আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং তদন্তে আর কী কী নতুন তথ্য সামনে আসে, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।
