কালিম্পঙে মেডিক্যাল কলেজ : মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কার্শিয়াং:- মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবার পাহাড়ে গিয়েই উত্তরবঙ্গের জন্য একগুচ্ছ মেগা প্রকল্পের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার কার্শিয়াংয়ের ‘জনকল্যাণ শিবির’ থেকে পাহাড়বাসীর উদ্দেশ্যে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, “আমি এখানে ঘুরতে নয়, কাজ করতে এসেছি। পাহাড়ের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য আমাদের রোডম্যাপ সম্পূর্ণ তৈরি।”
নির্বাচনে পাহাড়জুড়ে বিজেপির বিপুল জনসমর্থনের পর, পাহাড়বাসীর সেই ‘ঋণ’ চোকাতে এবার কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ প্রচেষ্টায় (ডবল ইঞ্জিন সরকার) দ্রুত পরিকাঠামো উন্নয়নের আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে পাহাড় বঞ্চিত হয়েছে দাবি করে তিনি জানান, এবার আর কোনও খামতি থাকবে না।
মুখ্যমন্ত্রীর সফরের মূল ঘোষণাগুলি এক নজরে:
কালিম্পঙে মেডিক্যাল কলেজ: পাহাড়ের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় ঐতিহাসিক বদল আনতে কালিম্পং জেলায় একটি নতুন মেডিক্যাল কলেজ তৈরি করার বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
১ জুলাই থেকে ১২৫ দিনের কাজ: গ্রামীণ অর্থনীতির জোর বাড়াতে আগামী ১ জুলাই থেকে পঞ্চায়েত এলাকাগুলিতে শুরু হতে চলেছে ১২৫ দিনের কাজের বিশেষ প্রকল্প।
পুলিশে মেগা নিয়োগ ও নারী সংরক্ষণ: আগামী এক মাসের মধ্যে রাজ্য পুলিশে বড়সড় নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে, এই নিয়োগে ৩৩ শতাংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।
‘খেলো ইন্ডিয়া’র অধীনে ক্রীড়া উন্নয়ন: কেন্দ্রীয় সরকারের ‘খেলো ইন্ডিয়া, জড়ো ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের হাত ধরে পাহাড়ের ক্রীড়া পরিকাঠামোর খোলনলচে বদলে ফেলা হবে। নতুন স্টেডিয়াম তৈরি সহ খেলার মাঠগুলির আধুনিকীকরণ করা হবে।
পাহাড়ের উন্নয়ন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য:
“পাহাড়ের মানুষের রায়ের প্রতি আমরা দায়বদ্ধ। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার মিলে এখানে কাজ করবে, আপনারা নিশ্চিত থাকুন। ধীরে ধীরে সমস্ত প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হবে।”
বঞ্চনার রাজনীতির অবসান?
রাজনৈতিক মহলের মতে, দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ের মানুষ যেভাবে গেরুয়া শিবিরের ওপর আস্থা রেখেছেন, এই ঘোষণাগুলি তারই পাল্টা উপহার। একদিকে জিটিএ দুর্নীতি নিয়ে সিবিআই তদন্তের হুঁশিয়ারি, আর অন্যদিকে স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও ক্রীড়াক্ষেত্রে এই বিপুল কর্মযজ্ঞের ঘোষণা— সব মিলিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম পাহাড় সফর উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে এক নতুন মোড় এনে দিল।
