আজকের দিনেতিলোত্তমা

পুরসভায় মেগা ঘোষণা শুভেন্দুর: ৬ মাসের মধ্যে ভোট, ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন বোর্ড! একতার বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে কলকাতা পুরসভার ভবিষ্যৎ রূপরেখা স্পষ্ট করে দিলেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার পুরসভার ১৪৪টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের নিয়ে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে একদিকে যেমন তিনি ‘দলমতনির্বিশেষে’ উন্নয়নের পক্ষে একতার বার্তা দিলেন, তেমনই আবার আগামী ৬ মাসের মধ্যে পুরভোট সম্পন্ন করার মেগা ঘোষণাও করলেন। সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে কলকাতা পুরসভায় নতুন নির্বাচিত বোর্ড গঠন হয়ে যাবে।

​৬ মাসের মধ্যে পুরভোট, সময়সীমা বেঁধে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী
​সদ্যপ্রাক্তন মেয়রের পদত্যাগের পর কলকাতা পুরসভায় এক প্রশাসনিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনেই এদিন শুভেন্দু অধিকারী মনে করিয়ে দেন, পুর পরিষেবা স্বাভাবিক রাখতেই রাজ্য সরকার আপাতত সেখানে প্রশাসক বসাতে বাধ্য হয়েছে। তবে এই প্রশাসক মণ্ডলী যে দীর্ঘস্থায়ী নয়, তা স্পষ্ট করে দিয়ে এদিন নির্বাচনের ঘোষণা করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ৬ মাসের মধ্যে ভোট প্রক্রিয়া শেষ করে ৭ ডিসেম্বরের মধ্যেই নতুন নির্বাচিত বোর্ড কলকাতার দায়িত্বভার গ্রহণ করবে।

​‘উন্নয়নের স্বার্থে সবাই এক পক্ষ’
​এদিনের অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও ভেদাভেদ ভুলে উপস্থিত হয়েছিলেন প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম, মালা রায়, কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়, অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দেবাশিস কুমার-সহ তৃণমূলের একাধিক কাউন্সিলর ও জনপ্রতিনিধিরা। অনুষ্ঠানের শুরুতেই তাঁদের সকলকে ধন্যবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী। উন্নয়ন ও নাগরিক পরিষেবার ক্ষেত্রে শাসক-বিরোধী ভেদাভেদ মুছে দেওয়ার ডাক দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “উন্নয়নের পক্ষে আজ আমরা সবাই এখানে একসঙ্গে এসে দাঁড়িয়েছি। আর মনে রাখবেন, উন্নয়নের স্বার্থে কোনও আলাদা পক্ষ বা দল হতে পারে না। এখানে আমরা সবাই মিলে এক পক্ষ। আমি একা কিছু নই, আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে কলকাতার মানুষের জন্য কাজ করব। কারণ, গণতন্ত্রে সাধারণ মানুষই শেষ কথা বলে।” ​সব দলের জনপ্রতিনিধিদের এই উপস্থিতিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি নিজে অত্যন্ত ধন্য ও গর্বিত বোধ করছেন বলেও জানান।

কলকাতার পুরনো গৌরব ফেরানোর প্রতিজ্ঞা
​নাগরিক পরিষেবার পাশাপাশি তিলোত্তমার হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার করার ওপর বিশেষ জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী। কলকাতার সমৃদ্ধ ইতিহাস স্মরণ করে আবেগঘন সুরে তিনি বলেন, কলকাতা এককালে গোটা দেশের ‘কালচারাল ক্যাপিটাল’ বা সাংস্কৃতিক রাজধানী ছিল। এই শহরকে আবার নতুন করে সেই পুরনো গরিমা ও অনন্য উচ্চতায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। আর সেই লক্ষ্যপূরণে তিনি ও তাঁর নতুন সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বলে স্পষ্ট বার্তা দেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান।
​রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা এবং অনুষ্ঠানে সমস্ত শিবিরের কাউন্সিলরদের উপস্থিতি আগামী দিনে কলকাতার পুর-রাজনীতি ও নাগরিক পরিষেবাকে এক নতুন দিশা দেখাতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *