হাজিরা এড়াচ্ছেন কেন? আদালতের কাছে ধমক খেলেন অভিষেক
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা:- সই জাল কাণ্ডে বার বার সিআইডির ডাক এড়িয়ে যাওয়া। বার আদালতের কড়া ধমকের মুখে পড়লেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক। রক্ষাকবচ চেয়ে করা মামলায় বিচারপতির প্রশ্ন, আপনি হাজিরা
হাজিরা এড়াচ্ছেন কেন?” এরপরই তিনি সাফ বলেন, “কখন সিআইডির কাছে যাবেন ১০ মিনিটের মধ্যে জানান। তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে।”
প্রসঙ্গত, সই জাল কাণ্ড নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল। সিআইডি যাতে কোনও রকম কড়া পদক্ষেপ না করতে পারে, সেই পরিপ্রেক্ষিতে রক্ষাকবচ চেয়ে আগেই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেইসময় তার আইনজীবীরা জরুরি ভিত্তিতে দ্রুত শুনানির আবেদন জানালেও বিচারপতি চৈতালী চট্টোপাধ্যায় দাস সেই আর্জি খারিজ করে দিয়েছিলেন। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, কোনও তাড়াহুড়ো নয়, ১০ জুন (বুধবার) মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। সিআইডির হাত থেকে বাঁচতে আদালতের রক্ষাকবচ পাওয়ার যে চেষ্টা অভিষেক করেছিলেন, সেই চেষ্টা তার সফল হয়নি। তার পক্ষে এই মুহূর্তে লিখিত কোনও আইনি ঢাল নেই। এর মধ্যেই বাড়িতে সিআইডি তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে।
উল্লেখ্য, সই জাল কাণ্ড ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্য। ভোটের ফল ঘোষণা পরেই এই ঘটনার সূত্রপাত। গত ৬ মে বিধায়কদের নিয়ে কালীঘাটে বৈঠক করেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হয়। ওইদিন যাঁরা উপস্থিত ছিলেন, তাঁরা সকলে শোভনদেবকে সমর্থন জানান। কিন্তু বিধানসভায় এই সংক্রান্ত যে প্রস্তাবনা জমা দিতে হয়, তা দেয়নি তৃণমূল। এরপর ১৩ ও ১৪ মে বিধানসভায় তৃণমূল বিধায়কদের শপথগ্রহণ হয়। শপথের পর নিয়ম মেনে সই করেন বিধায়করা। বিরোধী দল হিসেবে তৃণমূলের কাছ থেকে বিরোধী দলনেতার নাম নিয়ে প্রস্তাবপত্র চান বিধানসভার সচিব। সেটি জমা দিতে ১৯ মে ফের কালীঘাটে বৈঠক ডাকা হয় বিধায়কদের। ওইদিন কেউ সকলে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে উপস্থিত সকলের সই নেওয়া হয় দলের তরফে।
মিলিয়ে দেওয়ার পর দেখা যায়, কয়েকজন অনুপস্থিত। পরে দলের প্রস্তাবিত বিরোধী দলনেতার নামে সমর্থন জানিয়ে ৭০ জনের সই করা একটি কাগজ জমা দেওয়া হয় বিধানসভায়। তৃণমূলের তরফে জানানো হয়, ওটাই বিরোধী দলনেতার প্রস্তাবনাপত্র। সেখান থেকেই সমস্যা শুরু। দুই জায়গায় তৃণমূল বিধায়কদের সই না মেলায় সন্দেহ হয় সচিবের। জল গড়ায় থানা পর্যন্ত। এফআইআর দায়ের হয়। তদন্ত শুরু করে সিআইডি। একাধিক বিধায়ককে জেরা করা হয়। দলের ‘বিদ্রোহী’ বিধায়কের অভিযোগের তির অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে। এর পর থেকেই তাঁকে তলব করে চলেছে সিআইডি। আর হাজিরা এড়িয়ে চলেছেন অভিষেক।
