গ্রামে উন্নয়নের গতি আনতে তৎপর রাজ্য, ১১০০ কর্মীর বদলি-সহ ১১ হাজার পদে নিয়োগের বার্তা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা:- পঞ্চায়েত স্তরে দুর্নীতি রুখতে বড় পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের। একই জায়গায় তিন বছর ধরে কর্মরত প্রায় ১১০০ পঞ্চায়েত কর্মীকে চলতি জুন মাসেই বদলি করার নির্দেশ দিল পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর। একইসঙ্গে রাজ্যের ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতে ১১,১৫৪টি শূন্যপদে নিয়োগের বার্তাও দিলেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। বৃহস্পতিবার মৃত্তিকা ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে একগুচ্ছ ঘোষণা করলেন তিনি।
মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানান, যে সব পঞ্চায়েত কর্মী তিন বছর ধরে একই জায়গায় কর্মরত, তাঁদের অবিলম্বে বদলি করতে জেলাশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমন কর্মীর সংখ্যা প্রায় ১১০০। জুন মাসের মধ্যেই এই বদলি প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি রুখতে এবার থেকে সব গ্রাম পঞ্চায়েতে নিয়মিত অডিট হবে বলেও জানান তিনি। মন্ত্রীর কথায়, ‘এতদিন অডিট অনিয়মিত ছিল। এবার তা সময়ে সময়ে হবে।’ নিয়োগ প্রসঙ্গে দিলীপ জানান, রাজ্যের ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতে মোট ১১,১৫৪টি পদ খালি রয়েছে। তার মধ্যে গ্রাম পঞ্চায়েতে ৯,৯৩৬টি, পঞ্চায়েত সমিতিতে ৬৬০টি এবং জেলা বা মহকুমা স্তরে ৫৫৮টি পদ ফাঁকা। আগের মন্ত্রিসভার বৈঠকে ৬,৫৩৬টি শূন্যপদে নিয়োগের অনুমোদন মিললেও এখনও প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। মন্ত্রী জানান, নিয়ম মেনে পরীক্ষার মাধ্যমেই নিয়োগ হবে। কেন্দ্রীয় প্রকল্প নিয়ে তিনি বলেন, কেন্দ্রের সমস্ত গ্রামোন্নয়ন প্রকল্পই এ রাজ্যে কার্যকর করা হয়েছে এবং বরাদ্দ অর্থও আসতে শুরু করেছে। গ্রামবাংলায় ২৭৯০ কিলোমিটার রাস্তা ও ৪৫টি সেতু নির্মাণে প্রায় ২৫০০ কোটি টাকা খরচ হবে। জুন পর্যন্ত ১০০ দিনের কাজ অর্থাৎ মনরেগা চালু থাকবে। জুলাই থেকে শুরু হবে ১২৫ দিনের কাজ বা ‘জিরাম-জি’ প্রকল্প। এর জন্য বার্ষিক ১২,৮৫০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এছাড়া রাজ্যে ১ লক্ষ নতুন স্বনির্ভর গোষ্ঠী গড়ে তোলা হবে। প্রতিটি গোষ্ঠী পিছু সাড়ে তিন লাখ টাকা ঋণের ব্যবস্থাও করা হবে। দুর্নীতি রুখতে ‘দিশা’ কমিটির বৈঠকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, ‘এই কমিটির মাথায় সাংসদেরা থাকেন। আমিও এমপি ছিলাম। কিন্তু কোনও দিন ডাকা হয়নি। জেলাশাসককে এ ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সমন্বয় করেই উন্নয়নের কাজ হয়।’
পঞ্চায়েত ভোটের আগে কর্মী বদলি ও বিপুল নিয়োগের ঘোষণা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। একদিকে বদলির মাধ্যমে দুর্নীতিতে রাশ টানার চেষ্টা, অন্যদিকে শূন্যপদে নিয়োগ করে কর্মসংস্থানের বার্তা—দুই কৌশলেই হাঁটছে সরকার। এবার দেখার, জুনের মধ্যেই বদলি প্রক্রিয়া শেষ হয় কি না এবং নিয়োগ কবে থেকে শুরু হয়।
