Retired-DA : অবশেষে বকেয়া ডিএ পেতে শুরু করলেন অবসরপ্রাপ্তরা, কর্মরতদের নজর ১ জুনের নবান্ন বৈঠকে !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা:- বকেয়া মহার্ঘ ভাতা নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াই ও আন্দোলনের পর অবশেষে স্বস্তির খবর পেলেন রাজ্যের অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীরা। নবান্ন সূত্রে খবর, শুক্রবার থেকেই ধাপে ধাপে বকেয়া ডিএ-র টাকা পেনশনভোগীদের অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করেছে। তবে বর্তমানে কর্মরত লক্ষাধিক সরকারি কর্মী-শিক্ষক এখনও বঞ্চিত। ফলে তাঁদের সমস্ত নজর এখন ১ জুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কর্মচারী সংগঠনগুলির বৈঠকের দিকে।
অর্থ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০৮ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত যে ডিএ বকেয়া ছিল, আপাতত সেই সময়ের একটি অংশের টাকা মেটানো হচ্ছে। শুক্রবার থেকেই ট্রেজারি মারফত অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পেনশন অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রথম দফায় যাঁরা ২০১৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে অবসর নিয়েছেন, তাঁরাই অগ্রাধিকার পাচ্ছেন।
নবান্নের এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, আদালতের নির্দেশ এবং আর্থিক বাস্তবতার কথা মাথায় রেখেই প্রথমে পেনশনভোগীদের বকেয়া মেটানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের কোষাগারের উপর একসঙ্গে পুরো বোঝা না চাপিয়ে ধাপে ধাপে সমস্ত বকেয়া মেটানো হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
এই ঘোষণার পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া কর্মচারী মহলে। অবসরপ্রাপ্তরা খুশি হলেও, কর্মরত সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ। তাঁদের বক্তব্য, একই সময়ের বকেয়া হলে তাঁরা কেন পাবেন না। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের এক নেতা বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে রাস্তায় আছি। সরকারকে অবিলম্বে আমাদের বকেয়া মেটানোর রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে।”
এই টানাপোড়েনের মাঝেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ১ জুনের বৈঠক। ওইদিন নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের সমস্ত স্বীকৃত কর্মচারী সংগঠনের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, ওই বৈঠক থেকেই কর্মরতদের বকেয়া ডিএ মেটানোর দিনক্ষণ ও পদ্ধতি নিয়ে বড় ঘোষণা আসতে পারে। ষষ্ঠ বেতন কমিশনের সুপারিশ এবং কেন্দ্র-রাজ্য ডিএ-র ফারাক মেটানো নিয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পালাবদলের পর নতুন সরকারের আমলে এই প্রথম বকেয়া ডিএ দেওয়া শুরু হল। শাসক শিবির এটিকে “কর্মচারী-দরদী” পদক্ষেপ বলে দাবি করছে। পাল্টা বিরোধীদের কটাক্ষ, ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়ে এখন ধাপে ধাপে দায় সারছে সরকার। আপাতত অবসরপ্রাপ্তদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকায় স্বস্তি ফিরলেও, কর্মরতদের আন্দোলন যে থামছে না, তা স্পষ্ট। সব পক্ষই তাকিয়ে ১ জুনের বৈঠকের দিকে।
