Falta-Debangshu Panda : ফলতায় পদ্মঝড়, ১ লক্ষ ৮ হাজারে জয়ী দেবাংশু পাণ্ডা : চতুর্থ স্থানে তৃণমূল !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :-ফলতা বিধানসভার পুনর্নির্বাচনে রেকর্ড ব্যবধানে জয় পেল বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আবেদনে সাড়া দিয়ে লক্ষাধিক ভোটে জেতালেন ফলতাবাসী। তৃণমূল প্রার্থী ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির খান নেমে গেলেন চতুর্থ স্থানে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ ভেঙে চুরমার।
মার্জিন লক্ষাধিক। বিপুল জনসমর্থন। ফলতা বিধানসভার পুনর্নির্বাচনে আরও একবার পদ্মে ঝড়ে সাফ হয়ে গেল তৃণমূল। বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডাকে ১ লক্ষ ৮ হাজার ২১৭ ভোটে জেতালেন ফলতার মানুষ। এই জয়ের সঙ্গে সঙ্গেই ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রেকর্ড ব্যবধানে জেতা প্রার্থীদের তালিকায় নাম লেখালেন দেবাংশু।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ভোটের আগেই ফলতাবাসীর কাছে আবেদন রেখেছিলেন দেবাংশুকে এক লক্ষ ভোটে জেতানোর। সেই আবেদনে দুই হাত তুলে সমর্থন দিলেন ভোটাররা। ফল প্রকাশের পর দেখা গেল, মুখ্যমন্ত্রীর চাওয়া পূরণ করে তার চেয়েও ৮ হাজার বেশি ভোটে জিতেছেন বিজেপি প্রার্থী।
গণনার শুরু থেকেই স্পষ্ট ছিল পদ্মের দাপট। ব্যালট ও প্রথম রাউন্ড গণনা শেষেই ৯ হাজারের বেশি ভোটে এগিয়ে যান দেবাংশু পাণ্ডা। সেখানে তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান পান মাত্র ২১০টি ভোট। সিপিএম ও কংগ্রেস প্রার্থীর থেকেও পিছিয়ে পড়েন তৃণমূলের ‘পুষ্পা’। শেষ পর্যন্ত চতুর্থ স্থানেই থেকে যান তিনি।
উল্লেখ্য, পুনর্নির্বাচনের ঘোষণার পরই কার্যত লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেন তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। প্রচারে তাঁর অনুপস্থিতি ও দলের নিষ্ক্রিয়তা তখনই ফলাফলের আভাস দিয়ে দিয়েছিল। রাজনৈতিক মহলের মতে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারিতে অবাধ ভোট হওয়ায় ‘বুথ দখল’ বা ‘ছাপ্পা ভোটে’র অভিযোগ ওঠার সুযোগ পায়নি। ফলে প্রকৃত জনমতের প্রতিফলন ঘটেছে ব্যালটে।
২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে এই ফলতা কেন্দ্রেই তৃণমূল দেড় লক্ষের বেশি ভোটে জিতেছিল। সেই আসনে এবার চতুর্থ স্থান। রাজ্যের শাসকদলের কাছে এটা শুধু হার নয়, রাজনৈতিকভাবে বড় ধাক্কা। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এটা ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’-এর পতন। তাঁদের বক্তব্য, বিগত বছরগুলোতে ভোট লুঠের যে মডেল তৈরি হয়েছিল, মানুষের ভোটাধিকার ফিরে পেতেই তা মুখ থুবড়ে পড়ল।
ফলতার এই ফলাফল রাজ্য-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। পঞ্চায়েত থেকে লোকসভা, একের পর এক নির্বাচনে তৃণমূলের ভোট-ব্যাঙ্কে ধস নামছে বলে দাবি বিরোধীদের। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই একে ‘হার-বার মডেল’ বলে কটাক্ষ করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফলতার এই রায় শাসকদলের জন্য অশনিসংকেত। আগামী দিনে ‘নোটা’-র সঙ্গেও তৃণমূলকে কঠিন লড়াই করতে হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ফলতার মানুষ বুঝিয়ে দিল, ভোটের অধিকার ফিরে পেলে তারা কাকে চায়।
