হাওড়ায় প্রোমোটার-আবাসিক বাকবিতন্ডা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- হাওড়ার আন্দুল রোড সংলগ্ন চুনাভাটি এলাকায় একটি আবাসনে ঢুকে মারধর ও ভাঙচুরের অভিযোগ ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল রবিবার। আবাসনের বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রোমোটারের লোকজনই এই হামলা চালিয়েছে। যদিও প্রোমোটার পক্ষের দাবি, প্রথমে আবাসনের বাসিন্দারাই গায়ে হাত তোলেন। এই ঘটনায় দু’পক্ষের তরফেই থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় দু’বছর আগে আন্দুল রোডের চুনাভাটি এলাকায় একটি বড় আবাসন তৈরি হয়। আবাসনে দু’টি ব্লকে মোট ৬০টি ফ্ল্যাট রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই আবাসনের রক্ষণাবেক্ষণ সহ একাধিক বিষয় নিয়ে বাসিন্দাদের সঙ্গে প্রোমোটারের মতবিরোধ চলছিল। সেই সমস্যা মেটানোর উদ্দেশ্যেই রবিবার দুপুরে একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। কিন্তু বৈঠক চলাকালীনই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, কথাকাটাকাটি থেকে হাতাহাতি শুরু হয় এবং তা দ্রুত মারধরে পরিণত হয়।
ফ্ল্যাটের এক বাসিন্দা প্রদীপ ভট্টাচার্যের অভিযোগ,
“প্রোমোটার দলবল নিয়ে এসে আমাদের উপর হামলা চালায়। চেয়ার তুলে মারধর করা হয়। বৈঠকে উপস্থিত মহিলাদের শ্লীলতাহানিও করা হয়েছে। কয়েকজন গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি।”
এই ঘটনার একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, আবাসনের ভিতরে চেয়ার তুলে মারধর চলছে এবং দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।।যদিও এই অভিযোগ মানতে নারাজ প্রোমোটার পক্ষ।
প্রোমোটারের আত্মীয় ওয়াসিম আক্রমের দাবি,
“রবিবার বৈঠক চলছিল। সেই সময় প্রথমে ফ্ল্যাটের কয়েকজন বাসিন্দাই আমাদের উপর চড়াও হন। প্রোমোটারকেও মারধর করা হয়। আমাদের পক্ষের একজন গুরুতর জখম হয়েছেন।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রোমোটার মহম্মদ সাকিবের সরাসরি বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এই ঘটনার জেরে রবিবারই দু’পক্ষ নাজিরগঞ্জ থানায় পৌঁছে অভিযোগ দায়ের করে। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, উভয় পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। আপাতত কাউকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়নি। ভাইরাল ভিডিয়ো ও চিকিৎসার নথি খতিয়ে দেখে ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণের চেষ্টা চলছে।
