রেপো রেট অপরিবর্তিত, ইএমআই কমল না তবু স্বস্তিতে মধ্যবিত্ত
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- মধ্যবিত্তদের প্রত্যাশায় আপাতত সিলমোহর দিল না ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশই অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিল আরবিআই। ফলে এখনই হোম লোনের সুদের হারে বড় কোনও পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। স্বাভাবিকভাবেই যাঁরা সুদের হার কমার আশায় ছিলেন, তাঁদের একাংশ হতাশ। তবে অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইএমআই না কমলেও এই সিদ্ধান্ত মোটেই খারাপ খবর নয়।
ইতিমধ্যেই যাঁরা হোম লোন নিয়েছেন, তাঁদের জন্য এই সিদ্ধান্ত সবচেয়ে বড় স্বস্তির। রেপো রেট বাড়লে সরাসরি তার প্রভাব পড়ে মাসিক কিস্তির উপর। বর্তমান পরিস্থিতিতে বহু মধ্যবিত্ত পরিবার নির্দিষ্ট বাজেট ধরে সংসার চালান। হঠাৎ করে ইএমআই বেড়ে গেলে মাসিক খরচে বাড়তি চাপ তৈরি হয়। রেপো রেট অপরিবর্তিত থাকায় অন্তত সেই আশঙ্কা আপাতত নেই বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
নতুন যাঁরা বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুদের হার স্থির থাকলে ঋণের সম্ভাব্য ইএমআই আগেভাগেই হিসাব করা যায়। ফলে প্রথম বাড়ি কেনা, বড় বাড়িতে আপগ্রেড করা বা দীর্ঘমেয়াদি ফাইন্যান্স পরিকল্পনা নেওয়ার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়া অনেকটাই সহজ হয়। অনিশ্চয়তা কমায় বাজারে আস্থাও বজায় থাকে।
এই প্রসঙ্গে রিয়েল এস্টেট সংস্থা এ্যানারক গ্রুপের চেয়ারম্যান অনুজ পুরী জানিয়েছেন, রেপো রেট অপরিবর্তিত থাকায় হাউজিং মার্কেটে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে। ইএমআই-তে কোনও ধাক্কা না লাগায় ক্রেতাদের আগ্রহ একেবারে কমে যাবে না। তবে সুদের হার কমলে চাহিদা আরও বাড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁর মত, সাশ্রয়ী ও মধ্যবিত্ত হাউজিং সেগমেন্টে চাহিদা থাকলেও বাড়ির দাম বাড়ায় সমস্যা ক্রমেই বাড়ছে।
গবেষণায় উঠে আসা তথ্য যথেষ্ট উদ্বেগজনক। ২০২৫ সালে বড় শহরগুলিতে মোট বাড়ি বিক্রির মাত্র ১৮ শতাংশ ছিল এফোর্টেবল হাউসিং। যেখানে ২০২৪ সালে এই হার ছিল ২০ শতাংশ এবং ২০১৯ সালে ছিল প্রায় ৩৮ শতাংশ। অর্থাৎ, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সাশ্রয়ী বাড়ির অংশীদারিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে, যা মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
তবে সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকায় এবং মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকায় আরবিআই ধারাবাহিক নীতির পথেই হাঁটছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। এতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ছে, হাউজিং বাজারে স্থিতাবস্থা বজায় থাকছে এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করাও সহজ হচ্ছে। ইএমআই কমার আশা পূরণ না হলেও, অন্তত বাড়তি চাপ না বাড়ায় স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন
