মোবাইল গেমের টানে সোনা চুরি কিশোরের
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়া এলাকায় অনলাইন গেমের নেশা যে কতটা ভয়ংকর রূপ নিতে পারে, তারই এক বাস্তব উদাহরণ সামনে এল। অনলাইনে গেম খেলার আসক্তি এক কিশোরকে এমন পথে ঠেলে দিয়েছে, যেখানে সে নিজের অজান্তেই জড়িয়ে পড়েছে চুরি ও প্রতারণার ঘটনায়। বিষয়টি জানাজানি হতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত কিশোর অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। সে বাদুড়িয়ার পাত্তা পাড়া এলাকার বাসিন্দা। বেশ কিছুদিন ধরেই সে মোবাইল ফোনে অনলাইন গেম খেলায় অতিরিক্ত আসক্ত হয়ে পড়ে। দিনে-রাতে প্রায় সব সময়ই গেমে ডুবে থাকত সে। গেমে এগোতে গেলে বিভিন্ন স্তরে টাকা খরচ করার প্রয়োজন পড়ত। পরিবারের কাছ থেকে বারবার টাকা চেয়েও সে তা পেত না। ধীরে ধীরে সেই হতাশা থেকেই সে ভুল সিদ্ধান্ত নেয়।
একদিন পরিবারের অজান্তেই বাড়ির আলমারিতে রাখা সোনার গয়না সে চুরি করে নেয়। পরে ওই গয়নাগুলি নিজের কাছেই না রেখে সে অনলাইনে গেম খেলার সূত্রে পরিচিত দুই যুবকের হাতে তুলে দেয়। ধৃত ওই দুই যুবকের নাম অর্জুন মল্লিক ও মনোজিৎ দাস। অভিযোগ, তারা কিশোরটিকে গেমের কথা বলে প্রলোভন দেখায় এবং প্রায় ৯ লক্ষ টাকার সোনার গয়না মাত্র চার হাজার টাকায় হাতিয়ে নেয়।
পরিবারের লোকজন কিছুদিন পর গয়না খুঁজে না পেয়ে সন্দেহ করেন। ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই সে পুরো বিষয়টি স্বীকার করে নেয়। ছেলের কথা শুনে পরিবারের সদস্যরা কার্যত স্তব্ধ হয়ে যান। এরপর আর দেরি না করে ৭ ফেব্রুয়ারি বাদুড়িয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অভিযোগ পাওয়ার পরই পুলিশ তদন্তে নামে। তদন্তে নেমে পুলিশ দ্রুত অভিযুক্ত দুই যুবকের খোঁজ পায় এবং তাদের গ্রেফতার করে। ধৃতদের কাছ থেকে চুরি হওয়া গয়নার কিছু অংশ উদ্ধারও করেছে পুলিশ। তবে এখনও সব গয়না উদ্ধার হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, এই ঘটনায় আর কেউ যুক্ত আছে কিনা, তাও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, অনলাইন গেমের নেশা এবং ভুল সঙ্গের কারণেই কিশোরটি এই পথে পা বাড়ায়। এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও উঠে এল অনলাইন গেমের প্রতি কিশোরদের বাড়তে থাকা আসক্তির ভয়াবহ দিক। পরিবারের অজান্তে কীভাবে একটি বাচ্চা ধীরে ধীরে অপরাধের জগতে ঢুকে পড়তে পারে, তারই এক উদ্বেগজনক ছবি ফুটে উঠেছে এই ঘটনায়।
পুলিশ জানিয়েছে, কিশোরটিকে কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে সঠিক পথে ফেরানোর চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সচেতন হওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে, যাতে সন্তানেরা মোবাইল ও অনলাইন গেমের প্রতি অতিরিক্ত আসক্ত হয়ে না পড়ে।
