মায়াপুরে অমিত শাহ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নয় ‘চৈতন্যভক্ত’ পরিচয়ে বক্তব্য
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজ্যের রাজনৈতিক আবহ গরম হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিতেই নদিয়ার মায়াপুরে অবস্থিত ইসকন মায়াপুর মন্দির-এ উপস্থিত হলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর এই সফর ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে মঞ্চে উঠে শাহ স্পষ্ট করে দেন, তিনি এখানে কোনও রাজনৈতিক বার্তা দিতে আসেননি, বরং ভক্ত হিসেবেই এসেছেন।
এদিন ছিল শ্রীল ভক্তিসিদ্ধান্ত সরস্বতী ঠাকুর-এর ১২৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠান। সেই উপলক্ষেই মায়াপুরে আয়োজন করা হয় এক বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশের। সকালেই মন্দির চত্বরে পৌঁছে প্রথমে তিনি পূজা অর্চনায় অংশ নেন। মন্দির পরিক্রমা করেন এবং ইসকনের সন্ন্যাসী ও ভক্তদের সঙ্গে কথাবার্তাও বলেন। নিরাপত্তার কড়া ব্যবস্থা থাকলেও ভক্তদের মধ্যে উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো।
মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শাহ জানান, মায়াপুরে আসার আগে সকালে তাঁর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কথা হয়েছে। মায়াপুরে আসার বিষয়টি তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছিলেন এবং প্রধানমন্ত্রী এখানকার ভক্তদের উদ্দেশে ‘হরে কৃষ্ণ’ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বলে জানান তিনি। এরপরেই তিনি বলেন, সভার শুরুতে তাঁকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে সম্বোধন করা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তিনি এখানে সেই পরিচয়ে আসেননি। তাঁর কথায়, “আমি আজ এখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নয়, চৈতন্য মহাপ্রভুর একনিষ্ঠ ভক্ত হিসেবে উপস্থিত হয়েছি।”
শাহ আরও বলেন, বহুদিন ধরেই তাঁর ইচ্ছা ছিল মায়াপুরে আসার। কিন্তু নানা কর্মব্যস্ততার কারণে তা সম্ভব হয়নি। অবশেষে এই পুণ্যভূমিতে আসতে পেরে তিনি নিজেকে ধন্য মনে করছেন বলেও জানান। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু-এর ভক্তি আন্দোলনের প্রসঙ্গ। শাহ বলেন, চৈতন্যদেব যে ভক্তি আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন, তা আজ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। মানবজাতির মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ, ভক্তি ও আধ্যাত্মিক চেতনা জাগ্রত করার ক্ষেত্রে এই আন্দোলনের গুরুত্ব অপরিসীম।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মায়াপুর আজ আন্তর্জাতিক আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে ভক্তরা এখানে আসেন। এই ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে সামনে রেখে তিনি দেশের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরেন। এমন এক ঐতিহাসিক ও পবিত্র স্থানে এসে বক্তব্য রাখার সুযোগ পাওয়াকে তিনি আশীর্বাদ হিসেবে দেখছেন বলেও জানান।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সফরের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। তবে শাহ তাঁর বক্তব্যে সরাসরি কোনও রাজনৈতিক মন্তব্য না করে ধর্মীয় আবহকেই গুরুত্ব দিয়েছেন। সব মিলিয়ে, নির্বাচন-পূর্ব আবহে মায়াপুর সফর ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
