মাধ্যমিকে ভুয়ো পরীক্ষার্থী, খড়্গপুরে চাঞ্চল্য
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- রাজ্যে সোমবার থেকে শুরু হয়েছে চলতি বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষা। প্রথম দিনের পরীক্ষা নির্ধারিত সময়েই শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলেও পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়্গপুরে সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। নকল অ্যাডমিট কার্ড বানিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে এসে ধরা পড়ল এক কিশোর। এই ঘটনাটি ঘটেছে খড়্গপুর শহরের সাউথ সাইড হাই স্কুলে, যেখানে ইন্দা কৃষ্ণলাল শিক্ষা নিকেতনের পরীক্ষার্থীদের সিট পড়েছিল।
জানা গিয়েছে, ওই কিশোর খড়্গপুর শহরের ইন্দা কৃষ্ণলাল শিক্ষা নিকেতনের ছাত্র ছিল। ২০২৪ সালে নবম শ্রেণির পরীক্ষায় সে অকৃতকার্য হয়। এরপর নতুন করে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার বদলে সে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। নিয়ম অনুযায়ী নবম শ্রেণিতে ফেল করায় তাঁর দশম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়ার সুযোগ হয়নি। ফলে তাঁর নাম মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের তালিকায় ছিল না এবং কোনও বৈধ অ্যাডমিট কার্ডও তাঁর পাওয়ার কথা নয়। তাঁর রেজিস্ট্রেশন কার্ড এখনও স্কুলের কাছেই রয়েছে বলে স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে।
তবে সোমবার সকালে সেই কিশোর মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী সেজে সটান পরীক্ষা কেন্দ্রে হাজির হয়। অন্যান্য পরীক্ষার্থীদের মতো সে স্কুলের পোশাক পরে সাউথ সাইড হাই স্কুলের গেটে দাঁড়ায়। কেন্দ্রে ঢোকার সময় দায়িত্বে থাকা ইনভিজিলেটর প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর অ্যাডমিট কার্ড পরীক্ষা করছিলেন। ওই কিশোরও নিজের কাছে থাকা অ্যাডমিট কার্ড দেখায়। কিন্তু কার্ডটি দেখেই ইনভিজিলেটরের সন্দেহ হয়। কার্ডের নকশা, তথ্য ও অন্যান্য কিছু অসঙ্গতি নজরে আসে।
এরপর ওই কিশোরকে পরীক্ষা কেন্দ্রে ঢুকতে না দিয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষকের ঘরে বসিয়ে রাখা হয়। সেখানে অ্যাডমিট কার্ডটি খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হলে নিশ্চিত হওয়া যায় যে সেটি নকল। জেরা করতেই কিশোর স্বীকার করে নেয়, সে নিজেই নকল অ্যাডমিট কার্ড তৈরি করে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে এসেছিল। খবর দেওয়া হয় স্কুল কর্তৃপক্ষকে এবং তাঁর পরিবারকেও ডাকা হয়।
এই ঘটনার গুরুত্ব বুঝে বিষয়টি খড়্গপুর টাউন থানাকেও জানানো হয়। পুলিশ স্কুলে এসে ওই কিশোরকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কিশোরের বয়স ও ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে তাঁরা পুলিশের কাছে কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। স্কুলের তরফে আরও জানানো হয়েছে, যেহেতু সে নবম শ্রেণিতে ফেল করার পর আর স্কুলে যোগাযোগ রাখেনি, তাই দশম শ্রেণির পরীক্ষার্থী হিসেবে তাঁর নাম ওঠার কোনও প্রশ্নই ছিল না।
এই ঘটনায় পরীক্ষা কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে নকল অ্যাডমিট কার্ড তৈরি করে এত দূর পর্যন্ত এগোতে পারল ওই কিশোর। যদিও দ্রুত তৎপরতার জন্য বড় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো গিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
