আশাকর্মীদের বিক্ষোভ: ‘ভাতা নয়, বেতন চাই’
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- বৃহস্পতিবার পেশ হয়েছে রাজ্য বাজেট। বাজেটে রাজ্য সরকার মাসিক ভাতা ১০০০ টাকা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি কর্মীদের মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং কর্মরত অবস্থায় মৃত্যু হলে পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা এককালীন আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথাও জানিয়েছে। তবে এই ঘোষণায় খুশি নন রাজ্যের আশাকর্মীরা। তারা মনে করছেন, ১০০০ টাকার ভাতা তাদের দীর্ঘক্ষণ ও হাড়ভাঙা কাজের জন্য যথেষ্ট নয়।
শুক্রবার সকালে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা আশাকর্মীরা স্বাস্থ্য ভবনের সামনে ডেপুটেশন জমা দিতে এবং তাদের দাবিগুলো জানানোর জন্য একত্রিত হন। তাদের স্পষ্ট দাবি ছিল, ‘ভাতা নয়, বেতন চাই’। এদিন তারা ১১ দফা দাবি নিয়েই স্বাস্থ্য ভবনের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন। বিশাল মিছিলের মাধ্যমে তারা স্বাস্থ্য ভবনের সামনে পৌঁছান।
আশাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্রীয় বাজেটের মতোই রাজ্য বাজেটেও তারা বঞ্চনার শিকার হয়েছেন। মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং মৃত আশাকর্মীর পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা সাহায্যের ঘোষণা দীর্ঘ আন্দোলনের ফলেই এসেছে বলে তারা দাবি করেন। যদিও এই সিদ্ধান্তে তারা খুশি, তবু প্রশ্ন তুলেছেন, সরকার আগে কেন এই বিষয়গুলো বিবেচনা করেনি। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে রাজ্যে কত টাকা বরাদ্দ এসেছে, তা জানানো হচ্ছে না বলে আশাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন।
পশ্চিমবঙ্গ আশাকর্মী ইউনিয়নের রাজ্য সম্পাদিকা ইসমতারা খাতুন বলেন, “আমাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এই ধরনের আচরণ অবিলম্বে বন্ধ না হলে আমরা আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামব।”
বিক্ষোভ শুরু হওয়ার আগেই বিধাননগর পুলিশ স্বাস্থ্য ভবন থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে ব্যারিকেড তৈরি করে আন্দোলনকারীদের আটকে দেয়। এই ব্যারিকেড সরানোর চেষ্টা করতেই পুলিশ ও আশাকর্মীদের মধ্যে টানাপড়েন, ধস্তাধস্তি শুরু হয়। কর্মীরা রাস্তায় বসে পড়েন, যার ফলে স্বাস্থ্য ভবন চত্বর দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ থাকে।
আশাকর্মীরা জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য সচিবের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি তাদের আগেই নেওয়া হয়েছিল। তাদের একাধিক দাবি রয়েছে। পাশাপাশি তারা জানতে চাচ্ছেন, কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যকে কোন খাতে কত টাকা দিয়েছে, সেই বিষয়টিও জানা যাচ্ছে না।
আন্দোলনের নেত্রী ইসমাতারা খাতুন ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে বলেন, “আমাদের দাবির প্রতি সুবিচার করা হয়নি। আমরা আগে থেকেই কর্মসূচি জানিয়েছিলাম, তা সত্ত্বেও লোহা দিয়ে আটকে রাখা হলো। আমরা মারপিট করতে আসিনি।”
আশাকর্মীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি দাবি পূরণ না হয়, তবে তারা বড়সড় অসহযোগিতার পথে নামবেন। তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, ৩১ মার্চের মধ্যে সারা বছরের কাজের খতিয়ান বা রিপোর্ট জমা দিতে হয়, কিন্তু দাবি পূরণ না হলে তারা তা বয়কট করবেন। এই পরিস্থিতিতে গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিষেবায় বড়সড় অচলাবস্থার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এই বিক্ষোভ এবং স্বাস্থ্য ভবনের সামনের উত্তেজনা কেন্দ্র করে সল্টলেক এলাকায় দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল ব্যাহত হয়। পুলিশ স্বাস্থ্য ভবন চত্বরে বিপুলসংখ্যক বাহিনী মোতায়েন করে পরিস্থিতি সামলাতে চেষ্টা করেন।
