আইভিএফ সূত্রে শিশুকন্যা পাচার, গ্রেপ্তার মহিলা দালাল ও পরিবার
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- কলকাতার বিভিন্ন আইভিএফ সেন্টারে আনাগোনা ছিল মহিলা দালাল সোনালি সাহা। পুলিশের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, সোনালি সাহা অন্ধ্রপ্রদেশে একরত্তি শিশুকন্যাকে বিক্রির সুপারিশ করেছিল। বিষয়টি ঘিরে শাসন থানার পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছে।
শাসনের দাদপুর পঞ্চায়েতের বহিরা কালীবাড়ির বাসিন্দা রবীন পাসোয়ান ও টোটোন সরকার তাঁদের ছ’মাসের কন্যাসন্তানকে বিক্রি করেছে। কলকাতার দত্তপুকুরের বামনগাছির বাসিন্দা সোনালি সাহা বা জাসমিনা বিবি এই কাজে তাঁদের সঙ্গে যোগসাজশ করেছিলেন। শিশুটিকে অন্ধ্রপ্রদেশের এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হয় ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে। ধৃত তিনজনের কাছ থেকে প্রাথমিক জেরা চলছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোনালি সাহার সঙ্গে পরিচিত অনেক চিকিৎসক। সেই সূত্র ধরেই তিনি শিশুটির বিক্রির পথ সুপারিশ করেছিলেন। তদন্তকারীরা বলছেন, সোনালি এমন একাধিক চক্রের দালাল। তাঁর আইভিএফ সেন্টারগুলোতে নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। কলকাতার একটি আইভিএফ সেন্টারে চিকিৎসার জন্য আসা অন্ধ্রপ্রদেশের দম্পতির সঙ্গে যোগাযোগ করে সে, এরপর শাসনের রবীন ও তার স্ত্রী টোটোনের সঙ্গে মিটিং করে শিশুটির দাম ঠিক করে।
পুলিশ জেরায় সোনালি সাহা বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন
কখনও বলেছেন, শিশুটি আইভিএফ সেন্টার থেকেই অন্ধ্রপ্রদেশের দম্পতির হাতে পৌঁছে, আবার কখনও বলছেন, শাসনের দম্পতির সঙ্গে গিয়ে সরাসরি শিশুটি হস্তান্তর হয়েছে। এই কারণে পুলিশ এখন সোনালির বয়ানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে চক্রের খোঁজে রয়েছে। শিশুর বাবা-মা এই বিষয়ে মুখ খুলছেন না।
বারাসত পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, শিশুকন্যাকে অন্ধ্রপ্রদেশে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করা হয়েছে। শিশুটি উদ্ধার করা হলে আরও তথ্য জানা যাবে। ধৃতদের বিরুদ্ধে পাচার ও আইনশৃঙ্খলা লঙ্ঘনের মামলার প্রস্তুতি চলছে।
