অফসাইড-নাটকে শেষ হাসি রোনাল্ডোর: ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ হারিয়ে শেষ ষোলোয় পর্তুগাল
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে নাটকীয় ম্যাচে লুকা মদ্রিচের ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে নকআউটে পৌঁছে গেল পর্তুগাল। পেনাল্টি থেকে গোল করলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। অফসাইডের জন্য বাতিল হল দু’দলের তিনটি গোল। রিয়াল মাদ্রিদের দুই প্রাক্তন সতীর্থের লড়াইয়ে জিতলেন সিআর সেভেন, তবে দুই তারকার খেলাই এদিন ছিল নিষ্প্রভ।
২০১২ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে ২২২টি ম্যাচ একসঙ্গে খেলেছেন রোনাল্ডো ও মদ্রিচ। মাঝমাঠ থেকে মদ্রিচের পাসে রোনাল্ডোর বহু গোল দেখেছে ফুটবল বিশ্ব। কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে সেই বোঝাপড়া ছিল না। লড়াইটা ছিল মুখোমুখি। ২০২৫ সালের ৩ জুলাই গাড়ি দুর্ঘটনায় প্রয়াত সতীর্থ দিয়েগো জোতাকে জয় উৎসর্গ করতে মরিয়া ছিল পর্তুগাল। শুরু থেকেই প্রেসিং ফুটবলে ক্রোয়েশিয়াকে চাপে রাখেন রবার্তো মার্তিনেজের ছেলেরা। ৪ মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় পর্তুগাল। রাফায়েল লিয়াওর তৈরি করা আক্রমণ থেকে ব্রুনো ফের্নান্দেসের দুটি শটই আটকে দেন ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক লিভাকোভিচ। কিন্তু প্রথমার্ধে ওই সুযোগ ছাড়া তেমন কিছুই হয়নি। ফাইনাল থার্ডে গিয়ে বারবার খেই হারিয়েছে দু’দল। রোনাল্ডো ও মদ্রিচকেও নিষ্প্রভ দেখিয়েছে। দুই প্রাক্তন সতীর্থের কেউই এমন কিছু করতে পারেননি, যা সমর্থকদের ভরসা দেয়। গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হয় প্রথম ৪৫ মিনিট।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ায় ক্রোয়েশিয়া। ৪৮ মিনিটে মাতেয়ো কোভাচিচের শট পর্তুগালের এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে অল্পের জন্য বাইরে যায়। ৫৩ মিনিটে এগিয়ে যায় মদ্রিচের দল। ইয়োসিপ স্তানিশিচের কাছ থেকে বক্সের মধ্যে বল পেয়ে বাঁ পায়ের শটে গোল করেন ইভান পেরিসিচ। পিছিয়ে পড়ার পর সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে পর্তুগাল। চাপ বাড়তে থাকে ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণে। ৫৮ মিনিটে লিয়াওর শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ঠিক ২ মিনিট পরেই রোনাল্ডো ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষককে প্রায় একা পেয়ে গোল করেন। কিন্তু অফসাইডের জন্য বাতিল হয়ে যায় তাঁর গোল। পা পিছিয়ে থাকলেও শরীরের উপরের অংশ সামান্য এগিয়ে ছিল সিআর সেভেনের। গোল বাতিল হলেও আক্রমণ থামায়নি পর্তুগাল। ৬৮ মিনিটে বক্সের মধ্যে রেনাতো ভেগাকে ফাউল করেন ক্রোয়েশিয়ার এক ডিফেন্ডার। পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে ১-১ করেন রোনাল্ডো। তবে তাঁর খেলায় এদিন পরিচিত ছন্দ ছিল না। ৮১ মিনিটে তাঁকে তুলে রুবেন নেভেসকে নামান পর্তুগিজ কোচ। এর আগেই ৭৫ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে একক দৌড়ে বক্সে ঢুকে কোভাচিচের শট পোস্টে লেগে ফেরে। ৮৫ মিনিটে সুচিচের গোলও অফসাইডে বাতিল হয়। যখন মনে হচ্ছে খেলা অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে, ৯০+২ মিনিটে লিয়াওর পাস থেকে দুই ডিফেন্ডারকে ঘাড়ে নিয়েই গোল করেন গন্সালো রামোস। ২-১ এগিয়ে যায় পর্তুগাল। কিন্তু নাটকের বাকি ছিল তখনও। ৯০+৬ মিনিটে সমতা ফেরায় ক্রোয়েশিয়া। উল্লাসে মেতে ওঠেন মদ্রিচরা। রোনাল্ডোর মুখে নেমে আসে হতাশা। কিন্তু ‘ভার’ দেখে গোল বাতিল করেন রেফারি। রেনাতো ভেগার মাথায় লাগার পর বল পান অফসাইডে থাকা পেরিসিচ। ‘ভার’-এর বিশ্লেষণ, ভেগা ইচ্ছাকৃত বল স্পর্শ করেননি। ক্রোয়েশিয়ারই এক ফুটবলারের হেড তাঁর মাথায় লেগে পেরিসিচের কাছে যায়। তাই অফসাইড। সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক থাকলেও শেষ পর্যন্ত ২-১ জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে পর্তুগাল।
তিনটি গোল বাতিল, শেষ বাঁশির আগ পর্যন্ত টানটান উত্তেজনা— বিশ্বকাপ পেল আর এক থ্রিলার। প্রয়াত জোতাকে জয় উৎসর্গ করে শেষ ষোলোয় রোনাল্ডোরা। তবে ৩৯ বছরের রোনাল্ডো আর ৩৯-এর মদ্রিচ— দুই কিংবদন্তির পারফরম্যান্সেই হতাশ সমর্থকরা। রিয়ালের দিনের সেই আগুনে বোঝাপড়া আর নেই। পড়ে আছে শুধু অভিজ্ঞতা আর শেষবারের মতো প্রমাণ করার তাগিদ।
