“অগ্নিকাণ্ড নয়, দুর্নীতির পরিণতি”: আনন্দপুর কাণ্ডে অমিত শাহ
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- আনন্দপুরে ওয়াও মোমো কারখানার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ ক্রমশ বেড়েই চলেছে। শনিবার ব্যারাকপুরের আনন্দপুরীর মাঠে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বন্যার মতো বিজেপি কর্মীসভা শুরু করেন এবং এ ঘটনাকে ‘দুর্ঘটনা নয়’ বলে ঘোষণা করেন। তিনি রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন এবং দোষীদের গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
অমিত শাহ বলেন, আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, ২৭ জন নিখোঁজ। এত বড় ঘটনায় এখনও প্রকৃত দোষীদের গ্রেফতার করা হয়নি কেন, তিনি প্রশ্ন তোলেন। তিনি আরও বলেন, মোমো কারখানার মালিক কার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ এবং কারা সেখানে টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন, সেই সব প্রশ্নের জবাব মেলেনি। তিনি অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট কারখানার মালিক বিদেশ সফরে গিয়েছিলেন, কিন্তু তাঁকে গ্রেফতার করা হয়নি। তিনি বলেন, “এত মানুষ মারা গেলেন। এমন ঘটনায় অনুপ্রবেশকারীদের ক্ষেত্রে যেমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তেমনই ব্যবস্থা হওয়া উচিত ছিল। রাজনীতি করার সময় নয়, লজ্জা পাওয়ার সময়।”
শাহ আরও জানান, বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন, কিন্তু রাজ্য সরকারের বাধার কারণে তাদের সেটা করা সম্ভব হয়নি। তিনি প্রশাসনিক অসহযোগিতার অভিযোগও তোলেন। অগ্নিকাণ্ডের পর পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, জলাজমির উপর অবৈধভাবে গুদাম তৈরি করা হয়েছিল এবং বাইরে থেকে কারখানাটি বন্ধ ছিল। এর ফলে ভিতরে আটকে থাকা শ্রমিকরা আগুনে মারা গেলেও বাইরে বের হতে পারেননি।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “এই অগ্নিকাণ্ডে আপনার লোকজন জড়িত। যদি পর্দা দিতে চান, দিন। এপ্রিলের পরে বিজেপি সরকার আসলে আমরা এই অপরাধীদের খুঁজে খুঁজে জেলে পাঠাব।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, মোমো সংস্থার মালিকের বিদেশ সফরকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকার চুপ, যা প্রকাশ্যে একটি ছবি দেখার পর আরও স্পষ্ট হয়েছে।
ব্যারাকপুরের কর্মীসভায় অমিত শাহ তৃণমূল সরকারের দুর্নীতি এবং দোষীদের রক্ষা করার চেষ্টার প্রসঙ্গেও সরাসরি বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি উল্লেখ করেন, ১০০০ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে, কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী সেটা দেখতে পারছেন না। এছাড়া সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার বিষয়েও শাহ বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে এপ্রিল মাসের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন হবে। অনুপ্রবেশকারীদের ঠেকানোর জন্য জমি না দেওয়ার দায়ও রাজ্য সরকারের উপর চাপান।
শাহের বক্তব্যের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল: ২২তম রাজ্য হিসাবে বাংলায় বিজেপি জিতলে প্রধানমন্ত্রী মোদী খুশি হবেন; শুভেন্দু অধিকারী ও অন্যান্য নেতাদের বিরুদ্ধে সঠিক পদক্ষেপ না নেওয়ায় প্রশ্ন; মতুয়া ও নমশূদ্র সমাজের ভয় পাওয়ার কিছু নেই; ভবিষ্যতে বিজেপি ৫০ শতাংশ ভোট পাবে। তিনি পুনরায় দাবি করেন, আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ড কোনও দুর্ঘটনা নয়।
অগ্নিকাণ্ডের পরের পরিস্থিতি অত্যন্ত মারাত্মক। আনন্দপুরের নাজিরাবাদের কারখানা ও গুদাম ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। নিহতদের পরিবারের প্রিয়জনের খোঁজ চলছে, উদ্ধার হওয়া ২৫টি দেহাংশের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ ম্যাপিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে দেহগুলো পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। যদিও ওয়াও মোমো সংস্থা দায় চাপানোর জন্য পাশের গুদামের ওপরে দায় চাপিয়েছে, তবে নিহত তিনজন শ্রমিকের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে।
শাহের উপস্থিতি এবং বক্তব্যের সঙ্গে বিজেপি রাজ্যে প্রচারণার ঝাঁজ আরও বাড়িয়েছে। শুক্রবার রাতে কলকাতায় আসা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শনিবার বারাকপুরের আনন্দপুরীতে কর্মীসভা করেন এবং সেখানে রাজ্যের শাসকদল ও মুখ্যমন্ত্রীর ওপর সরাসরি অভিযোগ তোলেন। তিনি মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডকে তৃণমূল সরকারের দুর্নীতির ফল বলে ঘোষণা করেছেন। ভবিষ্যতে এই ঘটনা বিচারবিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে উন্মোচিত হবে, এমন আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
