আজকের দিনেসিলেবাস থেকে

Tanning-Job : জাদুঘর সংরক্ষণে হাতেকলমে প্রশিক্ষণ, সুযোগ দিচ্ছে নয়া দিল্লির ন্যাশনাল মিউজ়িয়াম…..

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- জাদুঘর মানেই শুধু পুরনো জিনিসের প্রদর্শনী নয় এ যেন সময়ের ভাঁজে লুকিয়ে থাকা মানবসভ্যতার দীর্ঘ পথচলার দলিল। একেকটি মুদ্রা, একেকটি ভাস্কর্য, একখানি বিবর্ণ পাণ্ডুলিপি কিংবা একটি ক্ষয়প্রাপ্ত চিত্রকর্মের মধ্যেও লুকিয়ে থাকে ইতিহাসের বহু স্তর। সেই স্তরগুলোকে সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ ও সঠিকভাবে উপস্থাপন করার জন্য প্রয়োজন বিশেষ প্রশিক্ষণ, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি এবং সূক্ষ্ম নন্দনবোধ। এই ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থীদের জন্য সুবর্ণ সুযোগ এনে দিচ্ছে নয়া দিল্লির ন্যাশানাল মিউজিয়াম।

এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হল সংগ্রহশালা ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণবিদ্যার ব্যবহারিক শিক্ষা দেওয়া। কাঠ, পাথর বা ধাতব মডেলের মাধ্যমে কীভাবে ঐতিহাসিক ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হয়, তা শেখানো হবে হাতে-কলমে। একই সঙ্গে থাকবে প্রাচীন শিল্পকর্ম সংরক্ষণের বৈজ্ঞানিক দিক বিশেষ রাসায়নিক প্রয়োগ, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ, আলোর মাত্রা নির্ধারণ, ফাঙ্গাস বা পোকামাকড় প্রতিরোধের কৌশল ইত্যাদি। একটি তৈলচিত্র বা শতাব্দীপ্রাচীন নথিকে দীর্ঘদিন অক্ষত রাখার পেছনে যে সূক্ষ্ম প্রযুক্তি ও গবেষণা কাজ করে, সেই বাস্তব অভিজ্ঞতাও মিলবে অংশগ্রহণকারীদের।

প্রত্নতাত্ত্বিক সামগ্রী নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রেও থাকবে আলাদা গুরুত্ব। প্রত্নখনন থেকে উদ্ধার হওয়া মুদ্রা, মৃৎপাত্র, টেরাকোটা মূর্তি, স্থাপত্যের ধ্বংসাবশেষ কিংবা প্রাচীন শিলালিপি এসব কীভাবে প্রাথমিকভাবে নথিভুক্ত করা হয়, কীভাবে তার তারিখ নির্ধারণ ও প্রেক্ষিত বিশ্লেষণ করা হয়, সে বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হবে। পাশাপাশি শেখানো হবে ক্যাটালগ প্রস্তুত করা, ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরি, এবং প্রদর্শনীর জন্য উপযুক্ত ব্যাখ্যামূলক লেখা তৈরির পদ্ধতি।

সংগ্রহশালার বিভিন্ন বিভাগ যেমন শিল্পকলা, প্রত্নতত্ত্ব, নৃতত্ত্ব বা বস্ত্র ও অলঙ্কার বিভাগ প্রত্যেকটির কাজের ধরন আলাদা। কোন সামগ্রী কোন বিভাগে রাখা হবে, কীভাবে তা থিম অনুযায়ী সাজানো হবে, দর্শনার্থীদের জন্য কীভাবে তথ্য উপস্থাপন করা হবে এসব বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে সরাসরি শেখার সুযোগ মিলবে। একটি প্রদর্শনী আয়োজনের নেপথ্যের পরিকল্পনা, আলোকসজ্জা, লেবেলিং এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার দিকগুলোও থাকবে পাঠ্যসূচিতে।

এই প্রশিক্ষণে অংশ নিতে পারবেন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের পড়ুয়ারা। নৃতত্ত্ব, ইতিহাস, পুরাতত্ত্ব, মিউজিয়োলজি, বৌদ্ধ স্টাডিজ, আর্ট হিস্ট্রি, ফাইন আর্টস, ফ্যাব্রিক অ্যান্ড অ্যাপারেল সায়েন্স প্রভৃতি বিষয়ে অধ্যয়নরতদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। মোট ২০ জন নির্বাচিত প্রার্থীকে নিয়ে মে, জুন ও জুলাই মাসে এই কর্মসূচি চলবে। সীমিত আসন হওয়ায় নির্বাচন প্রক্রিয়াও হবে বাছাই করে।

আবেদনপত্রের সঙ্গে প্রার্থীদের বিস্তারিতভাবে জানাতে হবে তাঁরা কোন বিভাগে প্রশিক্ষণ নিতে আগ্রহী এবং ভবিষ্যতে এই শিক্ষাকে কীভাবে কাজে লাগাতে চান। সঙ্গে জমা দিতে হবে সংশ্লিষ্ট কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতিপত্র। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৮ মার্চ। প্রাথমিক যাচাইয়ের পর নির্বাচিত প্রার্থীদের নয়া দিল্লিতে ডেকে পাঠানো হবে এবং সেখান থেকেই প্রশিক্ষণ পরিচালিত হবে। তবে প্রশিক্ষণকালীন কোনও ভাতা প্রদান করা হবে না।

ঐতিহ্য সংরক্ষণ, গবেষণা বা সংগ্রহশালা ব্যবস্থাপনায় ভবিষ্যৎ গড়তে আগ্রহী পড়ুয়াদের জন্য এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ইতিহাসকে শুধু বইয়ের পাতায় নয়, বাস্তব উপাদানের মাধ্যমে বুঝে নেওয়ার এবং সেই ঐতিহ্যকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রক্ষা করার এক মূল্যবান সুযোগ এনে দিচ্ছে এই প্রশিক্ষণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *