আজকের দিনেবিশ্ব

হরমুজ প্রণালী অচল, সৌদির তেল কমতেই রাশিয়া-ভেনেজুয়েলায় ঝুঁকছে ভারত

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা:- ইরান যুদ্ধের জেরে হরমুজ় প্রণালী কার্যত বন্ধ। আর তার জেরেই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তীব্র সঙ্কট। ধাক্কা লেগেছে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানিতেও। সৌদি-সহ পশ্চিম এশিয়া থেকে সরবরাহ কমায় এবার রাশিয়া, ভেনেজ়ুয়েলা ও পশ্চিম আফ্রিকার দিকে ঝুঁকছে ভারতীয় তেল সংস্থাগুলি। আইইএ-র রিপোর্ট বলছে, এটা সাম্প্রতিক কালের অন্যতম বড় জ্বালানি বিপর্যয়।

ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, এপ্রিলে ওপেক প্লাস গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলির মোট অপরিশোধিত তেল উৎপাদন দৈনিক ৮ লক্ষ ৩০ হাজার ব্যারেল কমে গিয়েছে। বর্তমানে দৈনিক ৩ কোটি ৪১ লক্ষ ব্যারেল তেল উৎপাদন করছে ওই দেশগুলি। হরমুজ় প্রণালী অচল হওয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলের উৎপাদন ও রপ্তানি ব্যাহত। এপ্রিলের গোড়ায় তেল পরিকাঠামোয় হামলা ও মাসের শেষে ইরানের রপ্তানিতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পরিস্থিতি আরও ঘোরাল করেছে।

ভারতের বিকল্প কৌশল কী?
১. রাশিয়ার দিকে ঝোঁক: রাশিয়া থেকে মোট আমদানি কিছুটা কমলেও পূর্ব সাইবেরিয়া-প্রশান্ত মহাসাগর বা ইএসপিও গ্রেডের তেল আমদানি রেকর্ড উচ্চতায়। কোজ়মিনো বন্দর থেকে ভারতে এই তেল রপ্তানি দৈনিক ৩ লক্ষ ১০ হাজার ব্যারেলে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌদির ‘আরব লাইট’ তেলের সঙ্গে গুণগত মিল থাকায় এই বিকল্পে ঝুঁকছে ভারত।
২. ভেনেজ়ুয়েলার তেল বাড়ল: গত মাসে লাতিন আমেরিকার এই দেশ থেকে আমদানি দৈনিক ১ লক্ষ ব্যারেল বেড়ে ৩ লক্ষ ৮০ হাজার ব্যারেলে পৌঁছেছে।
৩. পশ্চিম আফ্রিকার চাহিদা তুঙ্গে: ইউরোপ ও এশিয়ার শোধনাগারগুলি বিকল্প খুঁজতে শুরু করায় পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন গ্রেডের তেলের দামও চড়ছে।

ফেব্রুয়ারিতে সৌদি আরব থেকে ভারতে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ দৈনিক প্রায় ৫ লক্ষ ৯০ হাজার ব্যারেল ছিল। এপ্রিলে তা অনেকটাই কমে গিয়েছে বলে আইইএ-র রিপোর্টে উল্লেখ।

হরমুজ় প্রণালীর অচলাবস্থা কতদিন চলবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এই অবস্থায় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমদানি কৌশলে বড় বদল আনছে ভারত। রাশিয়া ও ভেনেজ়ুয়েলা ভরসা দিলেও আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা ভারতের অর্থনীতিতে চাপ বাড়াবে বলেই আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *