আজকের দিনেবাংলার আয়না

ভোটের আগে রুট মার্চ, নজরদারি বাড়ল মুর্শিদাবাদ জেলায়

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গেলেও এখনও ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ হয়নি। তার আগেই আইনশৃঙ্খলা ও ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলায় জেলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন শুরু হয়েছে। বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে। ইতিমধ্যেই রুট মার্চ শুরু হয়েছে সুতি থানা এলাকায়। আগে থেকেই এই এলাকা ও সংলগ্ন সামশেরগঞ্জ কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারিতে ছিল। এবার ভোটের আগে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও আস্থা ফেরাতে জওয়ানরা রুট মার্চে নেমেছেন।
জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার সুপার হোসেন মেহেদী রেহমান জানিয়েছেন, সুতি ও সামশেরগঞ্জকে স্পর্শকাতর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাই আগে থেকে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীকে রুট মার্চে ব্যবহার করা হচ্ছে। ভোটের আগে যাতে কোনো ধরনের উত্তেজনা বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য যৌথ নজরদারি চলছে।

সামশেরগঞ্জে বাবা-ছেলে খুনের ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে তখন সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। সেই সময় থেকেই গোটা মুর্শিদাবাদ জেলায় ১৬ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে। বিশেষ নজর রয়েছে বেলডাঙা, সুতি, সামশেরগঞ্জের মতো এলাকায়। প্রশাসন জানিয়েছে, উত্তেজনাপ্রবণ ও স্পর্শকাতর বুথগুলিতে বাহিনী টহল দেবে।

আগামী দিনগুলিতে আরও বাহিনী আসছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামীকাল আরও ১১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী ঢুকছে এবং ১০ মার্চ আসবে আরও ১২ কোম্পানি। ফলে মার্চের শুরু থেকেই জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা বাড়বে। জেলা পুলিশ ও বাহিনী যৌথভাবে নজরদারি চালাবে।

প্রশাসন জানিয়েছে, ডোমকল, সামশেরগঞ্জ, বেলডাঙা, রেজিনগর এই সব এলাকার বহু বুথ অতি স্পর্শকাতর। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় আন্তর্জাতিক সীমারেখা সংক্রান্ত বিষয়েও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রে ভোটের আগে উত্তেজনা ছড়ানোর ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, তাই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ জানিয়েছেন, রুট মার্চ শুরু হওয়ায় এলাকায় নিরাপত্তার অনুভূতি বাড়ছে। অনেকেই মনে করছেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি ভোটের আগে ভয়ের পরিবেশ কমাবে। তবে প্রশাসন সতর্ক নির্বাচনের সময় যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য কড়া নজরদারি চলবে।

সব মিলিয়ে ভোটের আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও জেলা পুলিশ সমন্বয় রেখে কাজ করছে, যাতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *