অস্কার ২০২৬: ইতিহাস গড়লেন দুই নারী, সেরা চিত্রগ্রাহক অটাম ডুরাল্ড ও সেরা অভিনেত্রী জেসি বাকলে
কিউ ইন্ডিয়া বাংলাঃ- ৯৮তম অ্যাকাডেমি পুরস্কারের মঞ্চে রচিত হলো নতুন ইতিহাস। দীর্ঘদিনের লিঙ্গবৈষম্য আর প্রচলিত ধ্যানধারণার দেয়াল ভেঙে বিনোদন দুনিয়ায় এক নতুন ভোরের সূচনা করলেন দুই নারী—চিত্রগ্রাহক অটাম ডুরাল্ড আরকাপা এবং অভিনেত্রী জেসি বাকলে। রবিবাসরীয় রাতে লস অ্যাঞ্জেলেসের ডলবি থিয়েটার সাক্ষী থাকল নারী শক্তির এক অনন্য জয়ের।
সিনেমার চিত্রগ্রহণের দায়িত্ব এতদিন পুরুষদের একচেটিয়া অধিকার বলে মনে করা হতো। র়্যাচেল মরিশন বা ম্যান্ডি ওয়াকাররা মনোনয়ন পেলেও অস্কারের স্বাদ পাননি কোনো নারী সিনেমাটোগ্রাফার। অবশেষে সেই খরা কাটল। ‘সিনার্স’ ছবির জন্য সেরা সিনেমাটোগ্রাফারের পুরস্কার জিতে ইতিহাস গড়লেন অটাম ডুরাল্ড আরকাপা।অ্যাডলফো ভেলোসো বা দারিয়াস খন্দজির মতো হেভিওয়েট পুরুষ প্রতিদ্বন্দ্বীদের টেক্কা দিয়ে অটাম প্রমাণ করলেন, ক্যামেরার লেন্সের পেছনে নারীরাও সমান সাবলীল। ফিলিপিনো এবং আফ্রিকান-আমেরিকান ক্রিওল বংশোদ্ভূত এই শিল্পী তাঁর দক্ষ কাজের জন্য বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছেন।
অন্যদিকে, অভিনয় জগতেও সৃষ্টি হলো নতুন রেকর্ড। ক্লোয়ি ঝাও পরিচালিত ‘হ্যামনেট’ সিনেমায় অনবদ্য অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রীর অস্কার জিতলেন জেসি বাকলে। এর মাধ্যমে প্রথম আইরিশ নায়িকা হিসেবে এই সম্মান অর্জনের গৌরব অর্জন করলেন তিনি। এর আগে ‘দ্য লস্ট ডটার’-এর জন্য মনোনয়ন পেলেও এবার বাফটা এবং গোল্ডেন গ্লোবের সাফল্যের ধারা বজায় রেখে অস্কার নিজের নামে করলেন বাকলে। মঞ্চে দাঁড়িয়ে অশ্রুসজল চোখে জেসি বলেন, “মা-বাবা তোমাদের ধন্যবাদ, তোমরা আমায় স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছ।” নিজের স্বামী ফ্রেডি সোরেনসেনের প্রতি ভালোবাসা উজাড় করে দেওয়ার পাশাপাশি তিনি তাঁর সহ-প্রতিদ্বন্দ্বী এমা স্টোন ও কেট হাডসনদেরও ধন্যবাদ জানান।
একনজরে ৯৮তম অস্কারের বিজয়ীদের তালিকা:
অটাম ডুরাল্ড এবং জেসি বাকলে ছাড়াও এবারের অস্কারের মঞ্চে যারা সেরার শিরোপা ছিনিয়ে নিয়েছেন, তারা হলেন-
সেরা সিনেমাটোগ্রাফি: অটাম ডুরাল্ড আরকাপা (সিনার্স)
সেরা অভিনেত্রী: জেসি বাকলে (হ্যামনেট)
সেরা পরিচালক: ক্লোয়ি ঝাও (হ্যামনেট)
সেরা ছবি: সিনার্স
সেরা পার্শ্ব অভিনেতা: (সংশ্লিষ্ট সিনেমার নাম অনুযায়ী)
সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী: (সংশ্লিষ্ট সিনেমার নাম অনুযায়ী)
সেরা মৌলিক চিত্রনাট্য: (সংশ্লিষ্ট সিনেমার নাম অনুযায়ী)
২০২৬ সালের অস্কার কেবল পুরস্কার বিতরণের মঞ্চ হয়ে থাকল না, বরং এটি হয়ে রইল লিঙ্গসাম্য এবং মেধার এক ঐতিহাসিক দলিল।
