আজকের দিনেভারত

ভোটার তালিকায় নাম বাদ: বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের ঐতিহাসিক নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,নয়া দিল্লি: ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে চলা দীর্ঘ আইনি বিতর্কে মঙ্গলবার বড়সড় নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির আবেদন যাঁদের বাতিল হয়েছে, তাঁদের আর্জি শোনার জন্য একটি বিশেষ অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে। এই ট্রাইব্যুনালের নেতৃত্বে থাকবেন একজন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এবং তাঁর সঙ্গে থাকবেন একাধিক প্রাক্তন বিচারপতি।

​আদালত জানিয়েছে, বিপুল সংখ্যক আপিল সামলাতে জুডিশিয়াল অফিসারদের ওপর চাপ কমানো প্রয়োজন। সেই কারণেই এই স্বতন্ত্র ব্যবস্থা।
​নেতৃত্ব: একজন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রাক্তন বিচারপতিগণ।
​সদস্য সংখ্যা: কাজের চাপ বুঝে সদস্য সংখ্যা বাড়ানো যাবে।
​খরচ: ট্রাইব্যুনালের যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।
​প্রক্রিয়া: হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে এই কাজের জন্য আগ্রহী প্রাক্তন বিচারপতিদের নাম সুপারিশ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

​শুনানি চলাকালীন দুপক্ষের আইনজীবীদের সওয়াল-জবাব শুনে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তিনি বলেন, “এখন এমন একটা পর্যায়ে এসে গেছি যেখানে দুই পক্ষের সদিচ্ছা নিয়েই সন্দেহ তৈরি হচ্ছে।” তবে তিনি এও স্পষ্ট করে দেন যে, সুপ্রিম কোর্ট এই সমস্যার শেষ দেখেই ছাড়বে। ​আদালতে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই প্রায় ৩ লক্ষ ৪ হাজার আবেদন বাতিল হয়েছে। আইনজীবী গোপাল এস আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এই বিপুল সংখ্যক আপিল হাইকোর্টে গেলে বিচারব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়তে পারে। জুডিশিয়াল অফিসারদের ত্যাগের প্রশংসা করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ​“আমাদের জুডিশিয়াল অফিসাররা ইতিমধ্যেই বিপুল চাপের মধ্যে কাজ করছেন। নিয়মিত ভিডিও কনফারেন্স এবং ছুটি বাতিল করে তাঁরা কাজ সামলাচ্ছেন। তাঁদের কাছ থেকে আর কতটা ত্যাগ আশা করা যায়?” আদালত নির্দেশ দিয়েছে, রাজ্য সরকারকে অবশ্যই জুডিশিয়াল অফিসারদের প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধা প্রদান করতে হবে।

​তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতকে জানান যে, ৬০ লক্ষ আবেদনের মধ্যে ইতিপূর্বেই ১০ লক্ষের নিষ্পত্তি হয়েছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট তার অন্তর্বর্তী নির্দেশে জানায়, ​নিষ্পত্তি হওয়া আবেদনের ভিত্তিতে একটি সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। ​এই বিষয়ে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করতে বলা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *