আরবানা আবাসনে আগুন
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- ইএম বাইপাস সংলগ্ন টলিপাড়ার একাধিক তারকার বসবাস করা একটি বিলাসবহুল আবাসনে সোমবার সকালে আচমকাই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। সপ্তাহের শুরুতেই এমন ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বাসিন্দারা। সকালবেলায় আবাসনের একটি টাওয়ারের পাঁচতলার একটি ফ্ল্যাটের ব্যালকনি থেকে প্রথমে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ধোঁয়া ঘন কালো আকার ধারণ করে এবং দাউদাউ করে জ্বলতে দেখা যায় আগুনের শিখা। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে আশঙ্কায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা কমপ্লেক্স জুড়ে।
ধোঁয়ায় ঢেকে যায় আবাসনের একাংশ এবং আশপাশের এলাকাও কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। অনেক বাসিন্দা প্রথমে বুঝে উঠতে পারেননি ঠিক কোথা থেকে আগুন লাগল। পরে পরিস্থিতি স্পষ্ট হতেই শুরু হয় হুড়োহুড়ি। বহু বাসিন্দা তড়িঘড়ি ফ্ল্যাট ছেড়ে নীচে নেমে আসেন। কেউ পরিবারের ছোট শিশু ও বয়স্ক সদস্যদের নিয়ে দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে নামেন, কেউ আবার নিরাপত্তাকর্মীদের সাহায্য নেন। নিরাপত্তারক্ষীরা মাইকে ঘোষণা করে সবাইকে শান্ত থাকার এবং দ্রুত নিরাপদ স্থানে যাওয়ার নির্দেশ দেন বলে জানা গেছে।
এই আবাসনে টলিপাড়ার বহু পরিচিত মুখের বসবাস। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রাজ চক্রবর্তী ও শুভশ্রী গাঙ্গু্লি,পাশাপাশি রচনা ব্যানার্জী এবং অঙ্কুশ হাজরা। ফলে আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়ে। অনেকেই ফোনে প্রিয়জনদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন এবং পরিস্থিতির খবর নিতে থাকেন।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় দমকলের দুটি ইঞ্জিন। দমকলকর্মীরা পৌঁছেই আগুনের উৎস চিহ্নিত করে নেভানোর কাজ শুরু করেন। উপরের তলায় আগুন লাগায় বিশেষ সতর্কতা নিয়ে জল ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়। বেশ কিছুক্ষণ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বলে দমকল সূত্রে জানা গেছে। আগুন যাতে পাশের ফ্ল্যাটে বা নিচের তলায় ছড়িয়ে না পড়ে, সেদিকেও নজর রাখা হয়।
প্রাথমিকভাবে কোনও প্রাণহানির খবর মেলেনি, যা বড় স্বস্তির বিষয়। তবে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সংশ্লিষ্ট ফ্ল্যাটের একটি অংশ এবং ব্যালকনির বেশ কিছু জিনিসপত্র পুড়ে গেছে বলে জানা গেছে। ঠিক কী কারণে আগুন লেগেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বৈদ্যুতিক ত্রুটি নাকি অন্য কোনও কারণ, তা খতিয়ে দেখছে দমকল ও প্রশাসন।
এই ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। তবু এই ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। আবাসনের বাসিন্দারা ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, সে জন্য বাড়তি সতর্কতার দাবি করেছে।
