আজকের দিনেগরম মাশলাতিলোত্তমাবাংলার আয়না

Bijoya Sweets : বিজয়ার মিষ্টিতে তেতো স্বাদ! চিনি-দুধের মূল্যবৃদ্ধির জেরে আকাশছোঁয়া দাম, ছোট হচ্ছে রসগোল্লাও !

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- বাঙালির বিজয়া মানেই মিষ্টিমুখ। দশমীর সকালে সিঁদুর খেলা সেরেই প্রতিবেশী, আত্মীয়ের বাড়িতে মিষ্টির বাক্স হাতে হাজির হওয়াই রীতি। কিন্তু এবছর সেই রীতিতেও টান পড়েছে মধ্যবিত্তের পকেটে। উৎসবের মরশুমের আগে দেশজুড়ে চিনি ও দুধের দাম লাফিয়ে বাড়ায় বিজয়ার মিষ্টিও হয়ে উঠেছে মহার্ঘ।(Bijoya Sweets)

গত কয়েক মাস ধরেই বাজারে অগ্নিমূল্য চিনি। ৪৮ টাকা কেজি দরের চিনি খুচরো বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৭০ টাকায়। একই সঙ্গে লিটার প্রতি ৫ থেকে ৮ টাকা বেড়েছে দুধের দাম। আর তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলার মিষ্টি শিল্পে।

কলকাতার বড় ব্র্যান্ড থেকে শুরু করে আসানসোল, বর্ধমান, দুর্গাপুরের মতো শিল্পাঞ্চলের ছোট দোকান – সর্বত্রই এক ছবি। রসগোল্লা, সন্দেশ, লেডিকেনি, চমচমের মতো নিত্যদিনের মিষ্টির দাম পিস প্রতি ২ থেকে ৩ টাকা বেড়েছে। যে রসগোল্লা আগে ৮ টাকায় পাওয়া যেত, তা এখন ১২ টাকা। ১০-১২ টাকার নিচে কোনও ভালো মিষ্টি এখন শোকেসে খুঁজে পাওয়াই মুশকিল।

শুধু দাম বাড়াই নয়, কমেছে মিষ্টির আকারও। ক্রেতাদের চোখে তা স্পষ্ট ধরা পড়ছে। দোকানদাররা মানছেন, দাম ধরে রাখতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই ওজনে কাটছাঁট করতে হয়েছে।(Bijoya Sweets)

বর্ধমানের এক নামী মিষ্টি ব্যবসায়ী জানান, “মিহিদানা এবং সীতাভোগের দাম দু’মাস আগেই ২৪০ টাকা থেকে বেড়ে ২৭০ টাকা হয়েছিল। পুজোর বাজারে তা এখন ৩০০ টাকা কেজি। উন্নত মানের সীতাভোগ, যার চাহিদা বিজয়ায় সবচেয়ে বেশি, তার দাম ৩৫০ থেকে বেড়ে ৪০০ টাকা ছুঁয়েছে।” তিনি আরও বলেন, এই সময় কারিগরদের দ্বিগুণ মজুরি দিতে হয়, সারারাত জেগে কাজ হয়। তার খরচও এসে পড়ে মিষ্টির দামে।

অন্যদিকে কলকাতার এক ব্যবসায়ীর বক্তব্য, “পুজোর সময় দুধের চাহিদা আকাশছোঁয়া হয়। যে দামেই হোক, আমাদের দুধ কিনতেই হয়। ময়দা, ঘি, কাজু, কিসমিস – কোনও কিছুর দামই কম নয়। তাই বিজয়ার স্পেশাল ফিউশন মিষ্টি, কুচো নিমকি, গজার দামও এবার ২০ শতাংশ বেশি।”

ফলে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার। বিজয়ায় ২-৩ কেজি মিষ্টি কেনা যাদের রেওয়াজ, তারা এবার ১ কেজিতেই সারছেন।(Bijoya Sweets)

তবে দাম যতই বাড়ুক, বাঙালির আবেগে ভাটা পড়েনি। ব্যবসায়ীরা আশাবাদী, আজ দশমীর সকাল থেকেই দোকানে দোকানে লম্বা লাইন পড়বে। কারণ বিজয়া মানেই তো সম্পর্কের মিষ্টতা, আর সেই মিষ্টতা ধরে রাখতে বাঙালি আজও মিষ্টির বাক্স হাতে হাজির হবেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *