Bardhaman : বালি খাদান থেকে তোলা টাকা সহ ধরা পড়ল গাড়ি, ৬.৪৯ লক্ষ উদ্ধার বর্ধমানে !
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- বালি খাদান থেকে তোলা বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা সহ একটি গাড়ি আটক করল বর্ধমান থানার পুলিশ। বুধবার গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বর্ধমান শহর সংলগ্ন ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে একটি উপনগরী এলাকায় অপেক্ষারত সাদা রঙের গাড়িটিকে আটক করা হয়। তল্লাশি চালিয়ে গাড়ির সিটের নীচ থেকে উদ্ধার হয় ৬ লক্ষ ৪৯ হাজার টাকা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গাড়িটিতে ছিলেন সৌরভ ঘড়ুই ও চালক বাপন হাঁসদা। টাকার উৎস বা কার কাছ থেকে এই টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনও সন্তোষজনক উত্তর দিতে না পারায় দু’জনকেই গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি গাড়িটিও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।
জিজ্ঞাসাবাদের সময়ে সৌরভ ঘড়ুই পুলিশকে জানান, তাঁরা বাঁকুড়ার ওন্দা এলাকা থেকে আসেন। তিনি দাবি করেন, বেলিয়াতোড়ের বাসিন্দা হৃদয় পালের হয়ে কাজ করেন তাঁরা। সৌরভের বক্তব্য অনুযায়ী, পশ্চিম বর্ধমান ও গলসির পারাজ এলাকায় বিভিন্ন বালি খাদান থেকে প্রতি সপ্তাহে টাকা সংগ্রহ করাই তাঁদের কাজ। তিনি আরও বলেন, “হৃদয় পাল যা বলেন, সেটাই আমরা করি।”
পুলিশের তদন্তে জানা গিয়েছে, আটক করা গাড়িটি পশ্চিম বর্ধমানের কাঁকসার বাসিন্দা সুবীর ঘোষের নামে রেজিস্ট্রেশন করা। তবে সুবীর ঘোষের দাবি, প্রায় ১০ মাস আগে তিনি বেলিয়াতোড়ের বাসিন্দা সঞ্জীব গড়াইয়ের কাছে গাড়িটি বিক্রি করে দেন। নানা প্রশাসনিক কারণে এখনও গাড়ির নাম পরিবর্তন হয়নি বলেও দাবি করেছেন তিনি।
এই বিষয়ে সঞ্জীব গড়াইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনে জানান, সুবীর ঘোষের কাছ থেকেই তিনি গাড়িটি কিনেছেন। তাঁর দাবি, গত তিন মাস ধরে মাসিক ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে হৃদয় পালকে ওই গাড়িটি ভাড়া দেওয়া হয়েছে। বাপন হাঁসদা তাঁরই গাড়ির চালক বলেও জানান সঞ্জীব।
এদিকে, হৃদয় পালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে তিনি বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে অস্বীকার করেন। প্রতিবেদকের পরিচয় জানার পর তিনি ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার ফোন ও মেসেজ করা হলেও তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া টাকার উৎস, বালি খাদানগুলির সঙ্গে আর্থিক লেনদেন এবং এই ঘটনার পিছনে কোনও বড় চক্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার হওয়া দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্ত আরও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
