হাসিনা মামলায় প্রধান প্রসিকিউটরকে সরালেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি সেই বিশেষ আদালতের প্রধান প্রসিকিউটরকে পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন, যে আদালত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামকে তাঁর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তিনি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হওয়া মামলায় সরকারের পক্ষ থেকে সওয়াল করেছিলেন। ওই মামলায় অভিযোগ ছিল, ২০২৪ সালের জুলাই-অগস্ট মাসে দেশজুড়ে যে আন্দোলন ও অশান্তি ছড়িয়ে পড়েছিল, তা দমন করতে গিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই আদালতে বিচার হয়।
এই মামলার শুনানি হয় ইন্টারন্যাশানাল ক্রাইম ট্রাইবুনালে। বিচার শেষে আদালত শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করে। তবে সেই সময় তিনি দেশে ছিলেন না। তিনি আদালতে হাজিরও হননি। ফলে তাঁকে অনুপস্থিত অবস্থাতেই দণ্ডিত করা হয়।
এবার সেই মামলার প্রধান প্রসিকিউটরকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর জায়গায় নতুন প্রধান প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে আমিনুল ইসলাম-লকে। জানা গিয়েছে, তিনি এর আগে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন। তাই এই নিয়োগকে ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ শুধু একজন প্রসিকিউটরকে বদলানো নয়, বরং এর পিছনে বড় রাজনৈতিক তাৎপর্য থাকতে পারে। নতুন সরকার বিচার প্রক্রিয়ায় কোনও পরিবর্তন আনতে চায় কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে। বিরোধী দলগুলির দাবি, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সিদ্ধান্ত। আবার সরকারের ঘনিষ্ঠ মহলের মতে, এটি প্রশাসনিক পুনর্গঠনের অংশ।
সব মিলিয়ে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা, মৃত্যুদণ্ডের রায় এবং এখন প্রধান প্রসিকিউটরকে সরিয়ে দেওয়া এই ঘটনাগুলি বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। আগামী দিনে এই মামলার ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে দেশজুড়ে কৌতূহল বাড়ছে।
