আজকের দিনেবাংলার আয়নারাজনীতি

ভোটের আগেই আজ তৃণমূল ছাড়ছেন আরাবুল

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- নির্বাচন ঘোষণার পরের দিনই বড় রাজনৈতিক বদলের সাক্ষী হতে চলেছে রাজ্যে বহু চর্চিত ভাঙ্গর বিধানসভা । স্থানীয় বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীর দল আইএসএফে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তার । সূত্রের খবর আজ ফুরফুরা শরীফ যাচ্ছেন তিনি । সেখানেই আইএসএফের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের দলে যোগদান করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি ।

প্রসঙ্গত আরাবুল ইসলাম বর্তমানে ভাঙ্গর ২ পঞ্চায়েত সমিতির বর্তমান সভাপতি । দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তৃণমূল তাকে সাসপেন্ড করেছিল । অনেকদিন ধরেই দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছিল এই হেভিওয়েট নেতার । ২০০৬ সালে যখন তৃণমূল ক্ষমতায় আসেনি তখন আরাবুল ইসলাম ভাঙ্গড় থেকে তৃণমূলের টিকিটে জিতে বিধায়ক হন । তারপরের বিধানসভায় ২০১১ রাজ্যে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল । সেবারও ভাঙ্গড় থেকে টিকিট দেওয়া হয় তাকে সেবারের নির্বাচনে তিনি পাঁচ হাজারের কাছাকাছি ভোটে সিপিএমের শিক্ষক প্রার্থী বাদল জমাদারের কাছে হেরে যান । দলে সেবার প্রবল গোষ্ঠীদ্বন্দ দেখা দিয়েছিল । তৃণমূল নেতা নান্নু হোসেন ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছিলেন। ১০ হাজার ৩৬৩ টি ভোট পেয়েছিলেন নান্নু হোসেন । যার কারণে আরাবুল ইসলাম সেবার ভোটে পরাজিত হন । তারপরে দুটি বিধানসভা নির্বাচনে দল তাকে প্রার্থী করেনি । একাধিকবার বিতর্কে জড়িয়েছেন তিনি। ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল যখন আব্দুর রাজ্জাক মোল্লার নাম ভাঙ্গরে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছিল তখন বিরোধিতা করেছিলেন । ২০২১ বিধানসভায় ভাঙ্গড় বিধানসভা কেন্দ্রে রেজাউল করিমের নাম তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা হলেন তখনও ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছিল আরাবুল ইসলামকে। কিন্তু বিগত দুটি বিধানসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশের পর প্রার্থীর সঙ্গে প্রচারে বেরিয়ে ছিলেন । ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত ভোটে হিংসার ঘটনায় আরাবুল ইসলামকে পুলিশ গ্রেফতার করে পরে অবশ্য জামিনে তিনি মুক্তি পেয়েছিলেন । কিন্তু সেই পরিস্থিতিতেও তিনি দলবদল করেননি । কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার পরের দিনই তৃণমূল ছাড়ার কথা শোনা গেল তার মুখে।

আজকে সংবাদমাধ্যমের সামনে আক্ষেপের সুর শোনা যায় তার গলায় । তিনি বলেন “আরাবুল ইসলামকে তৃণমূল চিনতে পারেনি। দলের সঙ্গে সবসময় আমি থেকেছি কাজ করেছি । নন্দীগ্রাম ও সিঙ্গুর আন্দোলনের সময় দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে থাকার প্রসঙ্গ তিনি তুলে ধরেন”। আরাবুল ইসলামের এই সিদ্ধান্তে ভাঙ্গরের রাজনৈতিক সমীকরণে বদল দেখা যেতে পারে । ২০২১ এ এই কেন্দ্রে তৃণমূলকে হারিয়ে বিধায়ক হয়েছেন নওশাদ সিদ্দিকী। তাহলে তিনি কি আরাবুল ইসলামের জন্য জেতা আসনটি ছেড়ে দেবেন ? আবার আরো একটি সূত্রের খবর ক্যানিং পূর্ব থেকে তিনি আইএসএসেফের প্রার্থী হতে পারেন। আর কিছুদিনের মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে যাবে সমস্ত বিষয়টা কোন কেন্দ্র থেকে তিনি প্রার্থী হচ্ছেন। এই সপ্তাহের মধ্যেই বাংলার সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ঘোষণা করার কথা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *