বিহার রাজনীতিতে নতুন মোড়: স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে নীতীশ-পুত্র নিশান্ত
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,পাটনা: বিহারের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের ‘ব্যতিক্রমী’ ধারা ভেঙে অবশেষে সপরিবারতন্ত্রের অভিষেক ঘটল। এতদিন নিজেকে রাজনীতির আলোকবৃত্ত থেকে দূরে সরিয়ে রাখা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের পুত্র নিশান্ত কুমার এবার বিহারের ক্যাবিনেট মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণে নিশান্তকে স্বাস্থ্য দপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
উপমুখ্যমন্ত্রী হতে চাননি, গুরুভার সামলাবেন শিক্ষানবিশ হিসেবেই
জেডিইউ সূত্রে খবর ছিল, সম্রাট চৌধুরী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর নিশান্তকে উপমুখ্যমন্ত্রী করার জন্য দলের পক্ষ থেকে প্রবল চাপ দেওয়া হয়েছিল। দলের বর্ষীয়ান নেতারা চাইছিলেন নীতীশ-পুত্র বড় কোনো পদে আসীন হোন। তবে রাজনৈতিক পরিপক্কতার পরিচয় দিয়ে নিশান্ত সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। তাঁর যুক্তি ছিল, রাজনীতিতে তিনি একেবারেই নতুন এবং শিক্ষানবিশ। সরাসরি বড় পদে বসলে দলের প্রবীণ নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হতে পারে। সেই কারণেই শেষমেশ তাঁকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রচারবিমুখ আইটি কর্মী থেকে রাজনীতির ময়দানে
৫০ বছর বয়সী নিশান্ত কুমার পেশায় একজন তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী। বিআইটিএস মেসরা থেকে পড়াশোনা করা নিশান্ত বরাবরই প্রচারের আড়ালে থাকতে পছন্দ করতেন। আধ্যাত্মিকতায় বিশ্বাসী নিশান্ত একসময় স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, রাজনীতিতে তাঁর বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। বাবা নীতীশ কুমার ১০ বার বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হলেও নিশান্তকে কখনও রাজনৈতিক মঞ্চে দেখা যায়নি। তবে গত বিধানসভা নির্বাচনে বাবার হয়ে নেপথ্যে থেকে ভোট পরিচালনার কাজে সক্রিয় হতে দেখা যায় তাঁকে। সম্প্রতি তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে জেডিইউ-তে যোগ দেন।
মন্ত্রিসভার বিন্যাস ও ক্ষমতার ভারসাম্য
মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী বৃহস্পতিবার মোট ৩২ জন মন্ত্রীকে বিভিন্ন দপ্তরে নিয়োগ করেছেন। বিজেপি এবং জেডিইউ—উভয় দলের মধ্যেই ক্ষমতার সমান বণ্টন করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজের হাতে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ স্বরাষ্ট্র দপ্তর।
নীতীশের নীতিতে বদল?
বিহারের রাজনীতিতে লালু প্রসাদ যাদবের পরিবারের বিরুদ্ধে বারবার ‘পরিবারতন্ত্রের’ অভিযোগ তুলেছেন নীতীশ কুমার। জেডিইউ বরাবর দাবি করে এসেছে তারা এই ধারার বাইরে। কিন্তু নিশান্তের এই রাজনৈতিক উত্থান ও মন্ত্রিত্ব গ্রহণ সেই দীর্ঘকালীন ভাবমূর্তিতে বদল আনল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। নীতীশ কুমারের উত্তরসূরি হিসেবে নিশান্ত এখন বিহারের রাজনীতির অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে উঠলেন।
