আজকের দিনেতিলোত্তমাবাংলার আয়নারাজনীতি

Shuvendu Adhikari : গ্রাম থেকে সিংহাসনের পথে শুভেন্দু অধিকারী !

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন এবং সেই চ্যালেঞ্জ অনায়াসে জিতলেন শুভেন্দু অধিকারী। ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর দুই কেন্দ্র থেকে বড় ব্যবধানে জয়ী বিজেপির শুভেন্দু । ২০২১ এর নির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকে হারিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে এবারে তৃণমূল নেত্রীর নিজের গড় ভবানীপুরে ১৫ হাজারেরও বেশি মার্জিনে তাঁকে পর্যুদস্ত করলেন শুভেন্দু ।

বাম রাজনীতির সময়ে পূর্ব মেদিনীপুরের শাসক বিরোধী মুখ হিসেবে উত্থান শুভেন্দু অধিকারীর । কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন ছাত্র পরিষদের হয়ে শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক জীবন শুরু । ১৯৯৫ সালে কংগ্রেসের টিকিতে জিতে কাউন্সিলর হয়েছিলেন তিনি। তারপর ২০০৪ সালে লোকসভা ভোটে তমলুকে লড়ে তিনি পরাজিত হয়েছিলেন । ২০০৬ সালে দক্ষিণ কাঁথি থেকে জিতে প্রথমবার বিধায়ক হন শুভেন্দু । ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলন তাঁর জীবনের অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট । যে আন্দোলন রাজ্যের বিদায় শাসকদল তৃণমূলকে গোটার রাজ্যে উত্থান হওয়াতে সাহায্য করেছিল সেখান থেকেই শুভেন্দু অধিকারীর নাম গোটা রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে। ২০০৯ সালের লোকসভা ভোটে রাজ্যে তখন সিপিএমের রমরমা বাজার । সেই আবহে দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা লক্ষণ শেঠ কে তিনি হারিয়েছিলেন। ২০১১ সালে রাজ্যে যখন পরিবর্তন হয় তৃণমূলের অন্যতম প্রচারের মুখ ছিলেন তিনি। ২০১৯ থেকে তৃণমূলের গুড বুক থেকে শুভেন্দু অধিকারীর নাম সরা শুরু হয়। ফল খারাপ হয় পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা পর্যবেক্ষক এর দায়িত্ব থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাকে সরিয়ে দেন। ২০২০ সালের আগস্টে তৃণমূলের রাজ্য সরকারি কর্মী সংগঠনের দায়িত্ব থেকে সরানো হয় শুভেন্দুকে।

তৃণমূলের থেকে দূরত্ব আরো বাড়ে শুভেন্দুর। ২০২০ সালের ১৯শে ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এর উপস্থিতিতে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন। ২০২১ সালের বিধানসভায় নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৯৫৬ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। ২০২১ সালের বিধানসভায় বিজেপি ক্ষমতায় না আসতে পারলেও রাজ্যে গেরুয়া শিবিরের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন শুভেন্দু। টানা ৫ বছর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সংগঠন বিস্তার থেকে শুরু করে দলীয় কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোয় ছুটে বেরিয়েছেন তিনি। বিজেপি কর্মীদের অন্যতম আস্থার প্রতীক হয়ে ওঠেন তিনি। ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে তিনি ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি আবার লড়তে চান । নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর দুই কেন্দ্র থেকে বিজেপি তাঁকে প্রার্থী করে। নন্দীগ্রামে নয় হাজারের কাছাকাছি এবং ভবানীপুরে ১৫ হাজারেরও বেশি মার্জিনে জয়ী হন শুভেন্দু অধিকারী।

বাংলার আগামী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজেপি শিবিরের মধ্যে শুভেন্দু অধিকারীর নাম সব থেকে এগিয়ে। এক সময় বাম দুর্গ পতনের অন্যতম কান্ডারী ছিলেন শুভেন্দু, এবার তাঁর হাত ধরেই রাজ্যের তৃণমূলের জমানার পতন হলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *