অভিষেকের ‘পারফরম্যান্স’ বার্তায় রণক্ষেত্র যাদবপুর: প্রার্থী দেবব্রতর সঙ্গে বচসা ৩ কাউন্সিলরের
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: ২০২৬-এর পুরভোটের টিকিট নির্ভর করবে চব্বিশের বিধানসভা উপনির্বাচনের লিডের ওপর— দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বার্তা দিতেই অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠল যাদবপুরের তৃণমূল শিবির। দলীয় বৈঠকে খোদ প্রার্থীর মুখের ওপর ‘শেষ দেখে ছাড়ার’ হুমকি দিলেন তিন কাউন্সিলর। গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে রীতিমতো অস্বস্তিতে ঘাসফুল শিবির।
বৃহস্পতিবার যাদবপুরের ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাঁপুই পাড়ায় দলের মূল কার্যালয়ে নির্বাচনী কোর কমিটির বৈঠক ডাকেন তৃণমূল প্রার্থী তথা কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ দেবব্রত মজুমদার। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন যাদবপুরের পর্যবেক্ষক তথা ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তও। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, বৈঠক চলাকালীন দেবব্রত মজুমদার সাফ জানিয়ে দেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ অনুযায়ী কাউন্সিলরদের কাজের মূল্যায়ন হবে এই ভোটের ফলাফলের ভিত্তিতে। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে কলকাতা পুরভোটে কারা টিকিট পাবেন, তা নির্ধারিত হবে এই উপনির্বাচনে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের লিড দেখে।
এই বার্তা শোনামাত্রই ফেটে পড়েন দুই মহিলা কাউন্সিলরসহ মোট তিন জনপ্রতিনিধি। তাঁদের অভিযোগ, দলের পুরনো কর্মীদের ওপর অবিশ্বাস করা হচ্ছে। ফলাফল দিয়ে টিকিট নির্ধারণের বিষয়টি তাঁদের কাছে অপমানজনক। তাঁরা চিৎকার করে বলতে থাকেন, “যাদবপুরে ধমক-চমকের রাজনীতি চলবে না। আমরা এর শেষ দেখে ছাড়ব।” এমনকি ক্ষোভে ফেটে পড়ে ওই তিন কাউন্সিলর এই উপনির্বাচন থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার হুমকিও দেন বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয় যখন দেবব্রত মজুমদার পাল্টা খোঁচা দিয়ে বলেন, এই কাউন্সিলররাই বিধায়ক হওয়ার জন্য দলের কাছে বায়োডেটা বা ‘সিভি’ পাঠিয়েছিলেন। এই মন্তব্যে ক্ষোভের আগুন ঘৃতাহুতি পায়। অস্থির পরিস্থিতি সামলাতে আসরে নামেন পর্যবেক্ষক বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত। তিনি ওই তিন কাউন্সিলরকে প্রশ্ন করেন, “২০২৪ সালে যখন মেয়র ফিরহাদ হাকিম একই কথা বলেছিলেন, তখন কেন আপনারা চুপ ছিলেন? অভিষেকের নির্দেশ সবাইকে মানতে হবে।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, যাদবপুরের মতো মর্যাদাপূর্ণ আসনে অনেকেই প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে ছিলেন। প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় এবং পদ খোয়ানোর আশঙ্কায় ভোটের মুখেই কোন্দল প্রকাশ্যে চলে এল।
সূত্রের খবর, পুরো বিষয়টি শীর্ষ নেতৃত্বের কানে পৌঁছেছে। বিদ্রোহী তিন কাউন্সিলরের গতিবিধির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। ভোটের কাজে অসহযোগিতা করলে কড়া শাস্তির মুখে পড়তে পারেন তাঁরা।
