আজকের দিনেতিলোত্তমা

কলকাতা বিমানবন্দরে বাতিল একগুচ্ছ বিমান, চরম দুর্ভোগে যাত্রীরা

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

 

কিউ ইন্ডিয়া বাংলাঃ- ইরান-ইসরায়েল ও আমেরিকার মধ্যে চলা তীব্র সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়ল কলকাতার আকাশপথে। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা বন্ধ ও নিরাপত্তার কারণে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একের পর এক আন্তর্জাতিক বিমান বাতিল করা হয়েছে। ফলে দুবাই, দোহা বা আবু ধাবি হয়ে ইউরোপ-আমেরিকা যাওয়ার পথে কলকাতায় আটকে পড়েছেন বহু যাত্রী।

​২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের জেরে ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী , কাতার ও জর্ডনসহ একাধিক দেশ তাদের আকাশসীমা আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ রেখেছে। ফলে কলকাতা থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী বিমান পরিষেবা গত কয়েকদিন ধরেই অনিয়মিত। আজ, মঙ্গলবারও (৩ মার্চ) কলকাতা বিমানবন্দরে কমপক্ষে ১০টি আন্তর্জাতিক বিমান বাতিল হয়েছে।

​বিমানবন্দর সূত্রের খবর অনুযায়ী, মূলত দুবাই, দোহা এবং আবু ধাবি রুটের বিমানগুলোই সবথেকে বেশি প্রভাবিত হয়েছে। বাতিল হওয়া পরিষেবার মধ্যে রয়েছে:

​এমিরেটস : দুবাইগামী ৪টি বিমান (আসা ও যাওয়া মিলিয়ে)।
​কাতার এয়ারওয়েজ দোহাগামী ২টি বিমান।
​ইতিহাদ এয়ারওয়েজ আবু ধাবিগামী ২টি বিমান।
​এয়ার আরবিয়া ২টি বিমান।
​গতকাল সোমবারও প্রায় ২০টি বিমান বাতিল হয়েছিল। শুধু আন্তর্জাতিক নয়, এয়ার ইন্ডিয়া ও ইন্ডিগো-র মতো দেশীয় সংস্থাগুলোও তাদের মধ্যপ্রাচ্যগামী পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে।

​বিমানবন্দরে গিয়ে হঠাৎ বাতিলের খবর শুনে ক্ষোভে ফেটে পড়েন অনেক যাত্রী। অনেকেরই অভিযোগ, বিমান সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে আগে কোনো বার্তা বা মেসেজ দেওয়া হয়নি। অনেক বিদেশি নাগরিক এবং চিকিৎসার কাজে বিদেশে যেতে চাওয়া রোগীরাও বিমানবন্দরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে ফিরে যাচ্ছেন। কেউ কেউ বিকল্প হিসেবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার (সিঙ্গাপুর বা ব্যাংকক) রুট ব্যবহারের চেষ্টা করছেন, তবে তার জন্য টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম দিতে হচ্ছে।

​বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের অনুরোধ জানিয়েছে, বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে যেন অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থার ওয়েবসাইট বা হেল্পলাইনে যোগাযোগ করে বর্তমান ফ্লাইটের সময়সূচী জেনে নেন। কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে এবং আটকে পড়া ভারতীয়দের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *