আজকের দিনেবাংলার আয়না

‘দিদির নয়, ভাইপোর শাসন হবে ২৬-এঃ অমিত শাহ

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

 

কিউ ইন্ডিয়া বাংলাঃ- ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরে হুঙ্কার ছাড়লেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রাজ্যের বর্তমান শাসকদলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তিনি সাফ জানালেন, তৃণমূলকে ভোট দেওয়ার অর্থ হলো রাজ্যে ‘ভাইপোর শাসন’ সুনিশ্চিত করা। সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসলে নিজের উত্তরাধিকারী হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে মসনদে বসাতে চাইছেন।

​এদিন মথুরাপুরের জনসভা থেকে অমিত শাহ অভিযোগ করেন যে, তৃণমূলের আমলে বাংলার উন্নয়ন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে। তাঁর কথায়, “মমতা দিদি বাংলার জনগণের কথা ভাবেন না, তিনি কেবল তাঁর ভাইপোকে মুখ্যমন্ত্রী করার চিন্তায় মগ্ন। আপনারা যদি তৃণমূলকে ভোট দেন, তবে তা দিদির শাসনের জন্য নয়, বরং ভাইপোর শাসনের পথ প্রশস্ত করবে।” বিজেপি এই পরিবারতন্ত্রের রাজনীতির অবসান ঘটাতে চায় বলে তিনি দাবি করেন।

​প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্রের উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি কেন বাংলায় পৌঁছাচ্ছে না, সেই প্রশ্নও তোলেন শাহ। রেশন দুর্নীতি থেকে শুরু করে নিয়োগ দুর্নীতি— একাধিক ইস্যুতে সরব হন তিনি। একইসঙ্গে দক্ষিণ ২৪ পরগনার স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে ‘অনুপ্রবেশ’ সমস্যা নিয়েও রাজ্য সরকারকে বিঁধেছেন তিনি। শাহের দাবি, ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির কারণেই তৃণমূল অনুপ্রবেশকারীদের মদত দিচ্ছে, যা রাজ্যের সুরক্ষার জন্য বড় বিপদ।

​কেন তৃণমূলকে ভোট নয়? শাহের যুক্তি:

​ যোগ্য নেতা নয়, বরং পরিবারতন্ত্রকে গুরুত্ব দিচ্ছে শাসকদল।

কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত বাংলার মানুষ।

রাজ্যের মহিলাদের নিরাপত্তা ও সাধারণ মানুষের সুরক্ষা তলানিতে।

তৃণমূলের নিচুতলার কর্মীদের বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট চালানোর অভিযোগ।

​মথুরাপুরের এই সভা থেকে অমিত শাহ কার্যত ২০২৬-এর নির্বাচনী দামামা বাজিয়ে দিলেন। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান, বাংলার মানুষ এবার পরিবর্তনের সংকল্প নিয়েছেন। সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে বিজেপিই একমাত্র বিকল্প বলে তিনি দাবি করেন।

​এদিনের সভায় অমিত শাহের সাথে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। শাহের এই আক্রমণাত্মক বক্তব্যের পর তৃণমূলের পক্ষ থেকে পাল্টা কী প্রতিক্রিয়া আসে, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *