বঙ্গবিভূষণ, ট্রোল আর রাজনৈতিক জল্পনা,ইমনকে ঘিরে সরগরম বাংলা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- সঙ্গীতশিল্পী ইমন চক্রবর্তী-কে ঘিরে এখন সমাজ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। আগে তিনি ‘বঙ্গভূষণ’ সম্মান পেয়েছিলেন। সম্প্রতি তিনি পেয়েছেন ‘বঙ্গবিভূষণ’। এই সম্মান পাওয়ার পর থেকেই তাঁকে নিয়ে চর্চা আরও বেড়েছে। তার মধ্যে ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ গান গাওয়ার পর বিষয়টি যেন আরও বেশি করে সামনে আসে। অনেকেই মজা করে বলছেন, যেন নায়ক ছবিতে উত্তম কুমার-এর সেই বিখ্যাত সংলাপ— “আই উইল গো টু দ্য টপ”— বাস্তবে সত্যি হয়ে গেছে।
তবে এই সাফল্য সবাই ভালভাবে নেননি। সমাজ মাধ্যমে তাঁকে নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য, কটাক্ষ এবং ট্রোল শুরু হয়। কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন, কেন তিনি সরকার ঘনিষ্ঠ অনুষ্ঠানে গান গাইলেন বা কেন তিনি এই সম্মান গ্রহণ করলেন। বিতর্ক এতটাই বাড়ে যে ইমন শেষ পর্যন্ত ফেসবুক ছেড়ে দেন।
একটি পোস্ট বিশেষভাবে ভাইরাল হয়, যেখানে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। সেই লেখা অনেকেই কপি করে শেয়ার করতে থাকেন। অন্যদিকে, অনেকেই আবার ইমনের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, একজন শিল্পী হিসেবে তাঁর নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে। তিনি যোগ্য বলেই ‘বঙ্গবিভূষণ’ পেয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর গান পছন্দ করেন এটা নতুন কথা নয়। সরকারি জুরির সিদ্ধান্তেই এই সম্মান দেওয়া হয়েছে। তাই অযথা সমালোচনা করা ঠিক নয় বলেই মত তাঁদের।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন একটি জল্পনা ছড়িয়েছে। শোনা যাচ্ছে, শনিবার বিকেলে কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যেতে পারেন ইমন। যদিও এই খবরের কোনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ নেই। তবু বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এর আগে শোনা গিয়েছিল, ২০২৬ সালের ওয়েস্ট বেঙ্গল এসেম্বলি ইলেকশন ২০২৬-এ তাঁকে প্রার্থী করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। হুগলির একটি আসন থেকে তাঁকে দাঁড় করানো হতে পারে এমন কথাও রটেছিল। পরে ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়, ইমন নাকি নিজেই রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তাঁর মত ছিল, তিনি মূলত শিল্পী। কোনও একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হলে তাঁর শিল্পীসত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
তবে রাজনীতির সঙ্গে তাঁর পরিচয় একেবারে নতুন নয়। ছাত্রজীবনে তিনি বামপন্থী ছাত্র সংগঠন (এসএফআই)-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং কলকাতা জেলা কমিটির সদস্যও ছিলেন। ফলে রাজনৈতিক পরিবেশ সম্পর্কে তাঁর ধারণা রয়েছে বলেই মনে করেন অনেকেই।
এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে বিনোদন জগতের একাধিক পরিচিত মুখ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক সদ্য রাজ্যসভার মনোনয়ন পেয়েছেন। সঙ্গীতশিল্পী অনীক ধর সম্প্রতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সঙ্গে দেখা করেছেন। ফলে ইমনকে ঘিরে জল্পনা অস্বাভাবিক নয় বলেই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।
সব মিলিয়ে, বঙ্গবিভূষণ সম্মান পাওয়ার পর থেকেই ইমন চক্রবর্তীকে ঘিরে আলোচনা, সমালোচনা এবং জল্পনা সবই একসঙ্গে চলছে। তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা নেবেন কিনা, তা এখনো স্পষ্ট নয়। আপাতত সবটাই অনুমান নির্ভর। ভবিষ্যতে তিনি কী সিদ্ধান্ত নেন, সেটাই এখন দেখার।
