ভোটের আগে বাংলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন?
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- ভোট ঘোষণা হওয়ার আগেই বাংলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তুতি কার্যত চূড়ান্ত পর্যায়ে। শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। তার ঠিক পরের দিন, রবিবার প্রথম দফায় ২৪০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যে পৌঁছতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। ভোটের সম্ভাব্য দিনক্ষণ ঘোষণার আগেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই অগ্রিম মোতায়েন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি বাহিনী মোতায়েন হচ্ছে পূর্ব মেদিনীপুরে ১৪ কোম্পানি। কলকাতা ও মালদহে ১২ কোম্পানি করে বাহিনী রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। জেলাভিত্তিক বণ্টনের তালিকাও ইতিমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। উত্তরবঙ্গের দার্জিলিংয়ে ৬, শিলিগুড়িতে ৩, কালিম্পংয়ে ৩, কোচবিহারে ৯, আলিপুরদুয়ারে ৫ এবং জলপাইগুড়িতে ৭ কোম্পানি মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ইসলামপুরে ৫, রায়গঞ্জে ৬ এবং দক্ষিণ দিনাজপুরে ১০ কোম্পানি রাখা হবে।
মুর্শিদাবাদ জেলায় ৮ ও জঙ্গিপুরে ৮ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েনের কথা রয়েছে। নদিয়ার কৃষ্ণনগর ও রানাঘাটে ৬ কোম্পানি করে বাহিনী যাবে। হাওড়া শহরে ৭ এবং হাওড়া গ্রামীণে ৮ কোম্পানি রাখা হবে। হুগলি গ্রামীণে ৬ ও চন্দননগরে ৮ কোম্পানি মোতায়েনের সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার একাধিক এলাকায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বারাকপুরে ৯, বনগাঁয় ৪, বসিরহাটে ৭ এবং বিধাননগরে ৪ কোম্পানি বাহিনী থাকবে। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় বারুইপুরে ৫, ডায়মন্ড হারবারে ৬ এবং সুন্দরবন এলাকায় ৪
কোম্পানি রাখা হচ্ছে।
এছাড়া পূর্ব বর্ধমানে ৮, পশ্চিম মেদিনীপুরে ৭, ঝাড়গ্রামে ৫, বাঁকুড়ায় ৭, পুরুলিয়ায় ৫ এবং বীরভূমে ৭ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। অধিকাংশ জেলাতেই ১০-এর নীচে কোম্পানি রাখা হলেও স্পর্শকাতর বা অতীতে অশান্তির নজির রয়েছে এমন জেলাগুলিতে তুলনামূলক বেশি বাহিনী পাঠানো হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকে রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব ও ডিজিপিকে পাঠানো চিঠিতে মোট ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের কথা জানানো হয়েছে। প্রথম দফার ২৪০ কোম্পানির মধ্যে ১১০ কোম্পানি সিআরপিএফ, ৫৫ কোম্পানি বিএসএফ, ২১ কোম্পানি সিআইএসএফ, ২৭ কোম্পানি আইটিবিপি এবং ২৭ কোম্পানি এসএসবি রয়েছে। দ্বিতীয় দফায় ১০ মার্চের মধ্যে আরও ২৪০ কোম্পানি আধাসেনা পৌঁছবে—যার মধ্যে ১২০ কোম্পানি সিআরপিএফ, ৬৫ কোম্পানি বিএসএফ, ১৬ কোম্পানি সিআইএসএফ, ২০ কোম্পানি আইটিবিপি ও ১৯ কোম্পানি এসএসবি থাকবে।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল ইতিমধ্যেই রাজ্য পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন বাহিনী এসে পৌঁছলে তা নিষ্ক্রিয়ভাবে রাখা যাবে না, দ্রুত জেলায় জেলায় পাঠিয়ে রুটমার্চ করাতে হবে। ভোটারদের আস্থা বাড়ানো এবং সম্ভাব্য অশান্তি রুখতেই এই পদক্ষেপ। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন কিছু এলাকায় উত্তেজনার আশঙ্কা থাকায় সেদিনও বাহিনীর টহলদারি জোরদার থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সবকিছু ঠিক থাকলে মার্চের প্রথম বা মাঝামাঝি সময়ে ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করতে পারে কমিশন। তার আগেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি যে নির্বাচনী আবহে বড় প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে ইতিমধ্যেই।
