শিল্প ও নিরাপত্তা নিয়ে সিঙ্গুর থেকে বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- সিঙ্গুরে সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুইটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন। এক দিকে রাজ্যের শিল্প ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা হবে, অন্য দিকে মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষা করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে শিল্প হবে, কর্মসংস্থান বাড়বে, কিন্তু তা কৃষিজমি কেড়ে নয়। সিঙ্গুরের ৭৭ একর জমিতে একটি প্রাইভেট ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক তৈরি হবে, যেখানে বিভিন্ন শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি জানান, অ্যামাজন ও ফ্লিপকার্টের মতো বড় সংস্থা এখানে ওয়্যারহাউস তৈরি করছে, যা থেকে হাজার হাজার মানুষ কাজ পাবে। মমতা বলেন, “আমি মুখে বড় বড় কথা বলি না, কাজে করি।”
মুখ্যমন্ত্রী কৃষি ও শিল্পের সমন্বয়কে গুরুত্ব দিয়ে বলেন, “শিল্পের জন্য কাজ করা মানে কৃষি বা মানুষের অধিকার হরণ নয়। আমরা চাই, শিল্পও চলুক, কৃষিকাজও চলুক, মানুষের জীবনমান উন্নত হোক।”
একই সভায় মমতা নাগরিকদের নিরাপত্তা ও আতঙ্ক নিরসনের প্রতিশ্রুতি দেন। সাম্প্রতিক সময়ের কিছু ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া (যেমন এসআইআর) এবং নাগরিকত্ব বিতর্কের কারণে মানুষের মধ্যে যে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে, তার প্রেক্ষাপটে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কেউ ভয় পাবে না এবং কাউকেই ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হবে না। তিনি আশ্বাস দেন, রাজ্যে সব সম্প্রদায়ের মানুষ সমানভাবে নিরাপদ থাকবেন। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, রাজ্যে কোনও ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরি হবে না এবং কারো বিরুদ্ধেও আক্রমণাত্মক বা অনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। এই নির্দেশ সকলের জন্য স্পষ্ট বার্তা মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও সম্মান সর্বোচ্চ। সিঙ্গুরের সভায় মমতার এই বক্তব্যে দুটি বিষয় স্পষ্ট হলো শিল্প ও কর্মসংস্থান বাড়ানো হবে, তবে তা কৃষি ও মানুষের স্বার্থের সঙ্গে সমন্বয় রেখে।
মানুষের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, কাউকেই ভয় বা আতঙ্কে রাখতে দেওয়া হবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রাজ্যে শিল্প ও কৃষি একসাথে চলবে, মানুষ কাজ করবে, জীবিকা পাবে, এবং সেই সঙ্গে সব মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকবে। সাধারণ মানুষের আতঙ্ক দূর করতে এবং রাজ্যকে সুরক্ষিত, কর্মমুখী ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী রাখতেই এই বার্তা দেওয়া হয়েছে।
