খেলাআজকের দিনে

টিম গেমেই বাজিমাত করলো অনভিজ্ঞ কিউই বাহিনী

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলাঃ ভারতের মাটিতে রেকর্ড গড়লো নিউজিল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দল। প্রথমবারের মত ভারতকে তাদেরই মাটিতে ওয়ানডে সিরিজে হারাল তারা । গম্ভীর – আগারকর জমানায় আরো একটা ব্যর্থতার কাহিনী যুক্ত হলো ভারতীয় ক্রিকেটে । ব্ল্যাক ক্যাপসদের কাছে এই জয়টা খুবই স্পেশাল , কারণ উইলিয়ামসন এর মত বিশ্বসেরা ব্যাটার এবং লকি ফার্গুসন , ম্যাট হেনরি সহ প্রথমসারির বোলার অনুপস্থিত এই সিরিজে । কীভাবে ভারতের মাটিতে এই কীর্তি গড়ল নিউজিল্যান্ড ?


প্রথম ম্যাচ বরোদায় পাটা উইকেট প্রথমে ব্যাটিং করে নিউজিল্যান্ড তোলে ৩০০ রান । রান তাড়া করতে নেমে শুরুতে রোহিত শর্মার উইকেট হারালেও মিডল অর্ডারের ব্যাটারদের সম্মিলিত প্রয়াসে জয় পায় টিম ইন্ডিয়া। প্রথম ম্যাচে হারার পর সবকিছু চুলচেরা বিশ্লেষণ করে নিউজিল্যান্ড টিম ম্যানেজমেন্ট। ভেঙে পড়ার পর ফিরে আসা এই মন্ত্রেই ভারতের মাটিতে সাফল্যের নতুন খতিয়ান লেখা কিউই ব্রিগেডের । যার ফলশ্রুতি ওয়ানডে সিরিজ শেষে স্কোরলাইন ২-১ । দ্বিতীয় ম্যাচে ক্রিস ক্লার্ক , জে ফক্স এর মত বোলাররা ভারতকে আটকে রাখলেন ২৮৪ রানে । একা কে এল রাহুল সেঞ্চুরি করলেও ভারতের বাকি ব্যাটাররা ছিলেন নিস্প্রভ। শুরুতে উইকেট হারালেও ড্যারেল মিচেল ও উইল ইয়ং এর পরিকল্পনা মাফিক পার্টনারশিপ এর কারণে টিম ইন্ডিয়ার থেকে ম্যাচ বের করে নেয় নিউজিল্যান্ড ।

ছবি- সংগৃহীত


তৃতীয় ম্যাচে ৫৮ রানে ৩ উইকেট হারালেও ম্যাচে ফিরে আসা কিউইরা । চতুর্থ উইকেটে ২১৯ রানের সুবিশাল পার্টনারশিপ হয় । নেপথ্যে সেই ড্যারেল মিচেল , এবার গ্লেন ফিলিপসকে সঙ্গে নিয়ে বড় পাহাড়সমান পার্টনারশিপ তৈরি করেন । যা মানসিকভাবে পিছিয়ে দেয় ভারতীয় বোলারদের । ৩৩৭ রানের বিশাল ইনিংস খাড়া করে সফরকারী দল। রান তাড়া করতে নেমে ভারতের টপ অর্ডার , মিডল অর্ডারের ব্যাটিং লাইন আপকে সম্পূর্ণরুপে ভেঙে দেয় কিউই বোলাররা । ব্যতিক্রম শুধু বিরাট কোহলি , তার ১০৮ বলে ১২০ রানের ইনিংস ও ৮ নম্বরে নামা হর্ষিত রানার ৫২ ভারতকে ম্যাচে বাঁচিয়ে রেখেছিল । এরা ফিরতেই ভারতের জয়ের আশা শেষ হয় ।এই সিরিজে নিউজিল্যান্ডের অন্যতম এক্স ফ্যাক্টর অবশ্যই ড্যারেল মিচেল । গোটা সিরিজে মোট করলেন ৩৫২ রান । প্রথম ম্যাচে ৮৪ ও দ্বিতীয় ও তৃতীয় ম্যাচে যথাক্রমে ১৩১ ও ১৩৭ রানের গুরুত্বপুর্ন ইনিংস তার দলকে এই জয় এনে দেওয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করেছে।কিউই বাহিনীর বোলিং লাইন আপ ও প্রশংসার যোগ্য। একমাত্র কাইল জেমিসন এই দলের সব থেকে অভিজ্ঞ বোলার, বাকিরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একদম অনভিজ্ঞ। জেমিসন ছাড়া বাকি বোলারদের সম্মিলিত ম্যাচের সংখ্যা হয়তো ৫০ হবে না। তাদের সম্মিলিত পরিকল্পনামাফিক বোলিং চাপের মুখে তাদের ম্যাচে ফিরিয়েছে । ব্ল্যাক ক্যাপসদের এই টিম গেমের প্রশংসা শোনা গিয়েছে প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার রবিচন্দ্রন অশ্বিন এর মুখে । তিনি বলেন নিউজিল্যান্ডের টিম মিটিং তিনি টিকিট কেটে দেখতে চান, কীভাবে তারা তাদের রণকৌশল ঠিক করে সেটা সামনে থেকে দেখার জন্য অনেক টাকা খরচ করতে প্রস্তুত তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *