MURSHIDABAD : ১৫০ কেজি ওজনের ছেলের মুখে খাবার জোগাতে হিমশিম, আধার জটে বন্ধ রেশন-ভাতা, অসহায় বাবা
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, মুর্শিদাবাদ :- মুর্শিদাবাদের ইসলামপুরের পমাইপুর মোস্তাফা পাড়ায় চরম দুর্দশায় দিন কাটছে ২৮ বছরের মোস্তাফিজুর রহমান ও তাঁর বাবা আবুল হাসানের (MURSHIDABAD)। ১৫০ কেজি ওজনের শারীরিক ও মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলের রোজকার খোরাক দেড় কেজি চালের ভাত ও আধ কেজি আটার রুটি। কিন্তু আধার কার্ড না থাকায় বন্ধ হয়ে গেছে রেশন, প্রতিবন্ধী ভাতা, খাদ্যসাথী ও আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, মোস্তাফিজুরের জন্ম ১৯৯৮ সালের ১৫ এপ্রিল (MURSHIDABAD ) । ২০০৫ সালে মা মারা যাওয়ার পর থেকেই তার শারীরিক ও মানসিক সমস্যা শুরু হয়। অস্বাভাবিক হারে ওজন বাড়তে থাকে, ধীরে ধীরে কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলে সে। এখন হাঁটাচলাও বন্ধ, নিজের হাতে খেতেও পারে না। বাবা মুখে তুলে দিলে তবে খায়। শরীরের যন্ত্রণায় পোশাক পরেও থাকতে পারে না, ঠান্ডা মেঝেতেই শুয়ে থাকে বেশিরভাগ সময় (MURSHIDABAD ) ।
এতদিন রেশন থেকে কোনওমতে খাবার জুটলেও এখন আধার না থাকায় তাও বন্ধ। আবুল হাসানের ভোটার কার্ড থাকলেও আধার নেই, ছেলের কোনও পরিচয়পত্রই নেই।
বাবা আবুল হাসানের অভিযোগ, ১৮ বছর ধরে আধার তৈরির চেষ্টা করছেন। হেরামপুর পঞ্চায়েত থেকে পাঁচরাহা মোড়ের সেন্টার, বিডিও অফিস, ২০২৪ সালে ইসলামপুর পোস্ট অফিস – সব জায়গায় ঘুরেও লাভ হয়নি। তাঁর কথায়, “পাগল বলে কেউ গায়ে হাত দিল না। সকলেই বলে অমুক জায়গায় যাও।”
ফলে দিনমজুরি করে যে টাকা পান, পুরোটাই চলে যায় ছেলের খাবার কিনতে। প্রতিবেশীদের কাছে হাত পাততে হয়। খিদের জ্বালায় কষ্ট পাওয়া ছেলেটিকে দেখে প্রতিবেশীরাও মাঝেমধ্যে খাবার দিয়ে যান।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে। রানিনগরের বিধায়ক জুলফিকার আলি জানিয়েছেন, ছেলেটির আধার কার্ড তৈরির ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হবে। রানিনগর ১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রোজিনা বিবি বলেন, বিডিও সাহেবের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে। আপাতত সরকারি সাহায্যের অপেক্ষায় অসহায় বাবা ও ছেলে।
