টলিউডে অঘোষিত ‘ব্যান’ বিতর্ক
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- বাংলা ছবির জগতে ফের অস্বস্তি। অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্য এবং জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা ঋদ্ধি সেন দু’জনকেই ঘিরে টেকনিশিয়ানদের ফেডারেশনের সঙ্গে টানাপোড়েন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে চর্চা, দু’জনের কাজেই কার্যত অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে।
জানা যাচ্ছে, টেকনিশিয়ানদের ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নেমেছিলেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য। সেই সময় যাঁরা তাঁর পাশে ছিলেন, তাঁদের অনেকেই পরবর্তীতে সমাজমাধ্যমে ভিডিও পোস্ট করে নিজেদের অবস্থান বদলান এবং ফের কাজ শুরু করেন। তবে অনির্বাণ এখনও পর্যন্ত কোনও ছবির শুটিং শুরু করেননি। ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের খবর, ক্ষমা চাওয়ার শর্তে কাজের দরজা খুলতে পারে, কিন্তু সেই পথে হাঁটতে রাজি নন অভিনেতা।
এর মধ্যেই নতুন করে বিতর্কে জড়িয়েছেন অভিনেতা ঋদ্ধি সেন। পরিচালক সুমন ঘোষ ঘোষিত ছবি ‘শ্রীরামপুর ডায়ারিজ’-এ তাঁর অভিনয়ের কথা থাকলেও, টেকনিশিয়ানদের একাংশ ঋদ্ধির সঙ্গে কাজ করতে নারাজ,এমন অভিযোগ উঠেছে। ফলে আপাতত ছবির শুটিং স্থগিত। যদিও ফেডারেশনের তরফে এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এখনও পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।
এই টানাপোড়েনের সূত্রপাত ঋদ্ধি সেনের একটি দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে। সেখানে তিনি বাংলা চলচ্চিত্র জগতের একাংশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। শিল্প, সংস্কৃতি, প্রতিবাদ এই শব্দগুলিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ তোলেন তিনি। পাশাপাশি চাকরি হারানো সাধারণ মানুষের পাশে শিল্পীমহলের নীরবতা এবং নিজেদের স্বার্থে হঠাৎ সক্রিয় হয়ে ওঠাকেও বিদ্ধ করেন ঋদ্ধি।
এই পোস্টের পর বেশ কিছুদিন ধরেই অস্বস্তি চলছিল। অভিযোগ, ফেডারেশনের তরফে ঋদ্ধিকে ক্ষমা চেয়ে একটি চিঠি দিতে বলা হয়। তবে অভিনেতা সেই নির্দেশ লিখিতভাবে জানাতে বলেন। এরপর আর কোনও লিখিত নোটিস পাননি তিনি। রিদ্ধি সেনের মতে “আমি ক্ষমা চাওয়ার মতো কোনও কাজ করেছি বলে মনে করি না। আমি আমার মত প্রকাশ করেছি ফেসবুকে, যা আমার মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে। তাই ক্ষমা চাওয়ার কথা ভাবছি না। তাতে বাংলা ছবিতে কাজ করতে পারলে করব, না পারলে করব না।”
উল্লেখযোগ্যভাবে, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘নগরকীর্তন’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতা হিসেবে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন ঋদ্ধি সেন। সেই অভিনেতার এই অবস্থান নিয়ে বাংলা চলচ্চিত্র জগৎ সরব হবে, না কি আগের মতো নীরবতা বজায় থাকবে—তা নিয়েই এখন প্রশ্ন।
টলিউডে শিল্পীর মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বনাম সংগঠনগত নিয়ন্ত্রণ। এই দ্বন্দ্বের সমাধান কোন পথে হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে বাংলা ছবির দুনিয়া।
