জটিল অস্ত্রোপচারে প্রাণ বাঁচল পোষ্যের
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা :- পোষ্য প্রাণীরা বর্তমানে শহুরে পরিবারের অবিচ্ছেদ্য অংশ।কুকুর–বিড়ালের পাশাপাশি ইগুয়ানা-সহ বিভিন্ন সরীসৃপও পোষ্য হিসেবে জায়গা করে নিচ্ছে শহরের বাড়িতে। তবে পোষ্যের যত্নের পাশাপাশি স্বাস্থ্য সংক্রান্ত ঝুঁকিও বাড়ছে। সেই প্রেক্ষিতেই সম্প্রতি কলকাতায় ঘটল এক ব্যতিক্রমী ও উদ্বেগজনক ঘটনা।
বাগুইআঁটির চালপট্টি এলাকার চন্দ পরিবারে পোষা একটি ১০ মাসের গোল্ডেন রিট্রিভারের পেটের ভিতর থেকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে উদ্ধার হল পারদের তৈরি একটি শিবলিঙ্গ।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন পরিবারের সদস্যরা মেয়ের নাচের অনুষ্ঠান দেখতে বাড়ির বাইরে ছিলেন। বাড়িতে একাই ছিল পোষ্য কুকুরটি। অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফিরে প্রথমে কোনও অস্বাভাবিকতা নজরে না এলেও কিছু সময় পর ঠাকুরের আসনে রাখা পারদের শিবলিঙ্গটি নিখোঁজ বলে ধরা পড়ে।
বাড়ির বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও বস্তুটির সন্ধান পাওয়া যায়নি। সেই সময় থেকেই পরিবারের সদস্যদের মনে সন্দেহ তৈরি হয় যে পোষ্যটি বস্তুটি গিলে ফেলতে পারে। যদিও বাইরে থেকে কুকুরটির শরীরে তৎক্ষণাৎ কোনও অসুস্থতার লক্ষণ দেখা যায়নি।
সন্দেহের ভিত্তিতে এক পশু চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাঁর পরামর্শ অনুযায়ী কুকুরটির পেটের এক্স-রে করা হয়। রিপোর্ট হাতে পেতেই বিষয়টি নিশ্চিত হয়। এক্স-রে রিপোর্টে স্পষ্টভাবে দেখা যায়, পোষ্যটির পেটের ভিতরে রয়েছে হারিয়ে যাওয়া পারদের শিবলিঙ্গটি।
প্রাথমিকভাবে ওষুধের মাধ্যমে বস্তুটি শরীর থেকে বের করার চেষ্টা করা হয়। তবে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। চিকিৎসকদের মতে, পারদের মতো ভারী ধাতু পেটের ভিতরে অবস্থান করলে তা মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
পরিস্থিতি বিবেচনা করে আরও এক পশু চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। বিস্তারিত আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে অস্ত্রোপচারই একমাত্র কার্যকর উপায়।চিকিৎসকরা জানান, এই ক্ষেত্রে এন্ডোস্কোপি পদ্ধতি প্রয়োগ করা সম্ভব ছিল না। কারণ, এন্ডোস্কোপির সময় ব্যবহৃত অ্যানাস্থেশিয়ার সঙ্গে পারদের সম্ভাব্য বিক্রিয়া পোষ্যের প্রাণ সংশয়ের কারণ হয়ে উঠতে পারত। সেই কারণে ওপেন অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পোষ্যের পরিবারের উদ্যোগে এক সরকারি পশু চিকিৎসকের সহায়তায় দেশপ্রিয় পার্ক সংলগ্ন একটি বেসরকারি পশু চিকিৎসা কেন্দ্র এ্যানিমাল হেলথ প্যাথোলজি ল্যাবে অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা হয়।
শহরের পোষ্যপ্রেমীদের সেই দুশ্চিন্তার দিন শেষ করতেই খাস কলকাতার বুকে নিজেদের দক্ষতা ও নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণ করেছে এ্যানিমাল হেলথ প্যাথোলজি ল্যাব। দিনের পর দিন অধ্যাবসায়, একাগ্রতা, মনোযোগ এবং দলগত কাজের খিদেকে সঙ্গে নিয়ে পশু চিকিৎসার জগতে একের পর এক সাফল্য এনে নতুন দিশা দেখাচ্ছেন তাঁরা।

রাত ন’টা নাগাদ অস্ত্রোপচার শুরু হয় এবং দীর্ঘ সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে চলে। রাত দেড়টা নাগাদ অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়। পোষ্যটির পেট থেকে উদ্ধার করা হয় পারদের শিবলিঙ্গটি। চিকিৎসকদের মতে, গোটা অস্ত্রোপচার প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ। অস্ত্রোপচার সফল হওয়ার পর পোষ্যটির শারীরিক অবস্থার ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। বর্তমানে সে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে পশু চিকিৎসকেরা পোষ্যপ্রেমীদের সতর্ক করে জানিয়েছেন, পোষ্যের নাগালের মধ্যে ভারী ধাতু, ছোট শক্ত বস্তু বা ধর্মীয় সামগ্রী রাখা উচিত নয়। কৌতূহলবশত পোষ্যরা এমন বস্তু গিলে ফেলতে পারে, যা গুরুতর বিপদের কারণ হতে পারে। কলকাতায় এই ধরনের ঘটনা পোষ্য নিরাপত্তা ও সচেতনতার বিষয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
