বিদেশে কর্পোরেট কনসালট্যান্ট নিয়োগের পথে নতুন সরকার
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতাঃ রাজ্যে গত ১৫ বছরের শিল্পের খরা কাটাতে এবার কর্পোরেট ধাঁচে কোমর বেঁধে নামছে নতুন সরকার। বাংলায় বিপুল বিদেশি বিনিয়োগ টানতে এবার বিদেশে ‘কনসালট্যান্ট’ বা উপদেষ্টা রাখার অভিনব ব্যবস্থা চালু করতে চলেছে রাজ্য সরকার। এই কনসালট্যান্টদের মূল কাজ হবে বিশ্বমঞ্চে ও বিদেশি শিল্পপতিদের দরবারে বাংলার নতুন ভাবমূর্তি তুলে ধরা এবং নতুন সরকারের আমলে রাজ্য যে কতটা শিল্পবান্ধব হয়ে উঠেছে, তা বুঝিয়ে বিনিয়োগকারীদের বাংলায় নিয়ে আসা।
সোমবার নবান্নে আয়োজিত শিল্প বিষয়ক মন্ত্রিগোষ্ঠীর প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং পরিবহণ ও শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং-সহ বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।
প্রথম বৈঠকেই চাঞ্চল্যকর তথ্য: মিলল না জমির সঠিক তথ্যভাণ্ডার
নবান্ন সূত্রে খবর, নতুন সরকারের মন্ত্রিগোষ্ঠীর এই প্রথম বৈঠকে রাজ্যের শিল্প সংক্রান্ত তথ্য তালাশ করতে গিয়ে একপ্রকার বিশৃঙ্খল ছবি সামনে এসেছে। দেখা গিয়েছে, পূর্বতন সরকারের আমলে রাজ্যে জমির কোনো সঠিক ‘ডেটা ব্যাঙ্ক’ বা তথ্যভাণ্ডারই তৈরি করা হয়নি। জমি সংক্রান্ত বেশিরভাগ তথ্যেরই কোনো লিখিত রেকর্ড নেই।
শিল্পের জন্য জমি জোগাড় করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ প্রশাসনের কাছে। তাই নবান্নের নির্দেশে এবার কোথায় কত জমি রয়েছে, তার একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে মূলত তিন ধরনের জমি চিহ্নিত করা হবে:
১. অব্যবহৃত শিল্প জমি: যে সমস্ত জমি শিল্পের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল, কিন্তু বছরের পর বছর তা অব্যবহৃত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে। ২. সরকারি জমির খতিয়ান: সরকারের অধীনে বর্তমানে কী কী জমি রয়েছে এবং সরকারি বা বেসরকারি কোনো রেকর্ডেই নেই এমন জমি খুঁজে বের করা। ৩. বেসরকারি জমি: প্রয়োজনে অতীতে নেওয়া যে সমস্ত জমি বেসরকারি হাতে রয়েছে, তা সরকারি নিয়ন্ত্রণে ফেরানোর চিন্তাভাবনাও করা হচ্ছে।
কেন এই কনসালট্যান্ট নিয়োগের সিদ্ধান্ত?
রাজ্যের প্রশাসনিক মহলের মতে, প্রতি বছর ঘটা করে শিল্প সম্মেলন হলেও গত দেড় দশকে রাজ্যে আশানুরূপ শিল্প আসেনি। এই বন্ধ্যাদশা ও খরা কাটাতে এবার সম্পূর্ণ পেশাদার ও কর্পোরেট দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগোতে চাইছে নতুন সরকার।
কী করবেন এই কনসালট্যান্টরা? বিশ্বের বিভিন্ন প্রধান প্রধান দেশে এই বিশেষ কনসালট্যান্টদের রাখা হবে। তাঁরা আন্তর্জাতিক স্তরে বাংলার হয়ে প্রচার চালাবেন এবং বিনিয়োগের জন্য পশ্চিমবঙ্গ যে বর্তমানে দেশের অন্যতম সেরা ও নিরাপদ গন্তব্য, তা বিদেশি লগ্নিকারীদের কাছে তথ্যসহ ব্যাখ্যা করবেন।
ইতিমধ্যেই রাজ্যে লগ্নির একগুচ্ছ নতুন প্রস্তাব এসেছে। সেই প্রস্তাবগুলি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি দ্রুত জমির ব্যবস্থা করতে চাইছে মন্ত্রিগোষ্ঠী। প্রথম বৈঠকের পর স্পষ্ট, লাল ফিতের ফাঁস কাটিয়ে দ্রুত রাজ্যে কাজের পরিবেশ তৈরি করতে মরিয়া সরকার। খুব শীঘ্রই এই বিশেষ কমিটি ফের বৈঠকে বসবে বলে নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে।
