আজকের দিনেতিলোত্তমা

চালক ছাড়াই গঙ্গার তলা দিয়ে ছুটবে মেট্রো!

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: কলকাতার গণপরিবহনে এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। এবার কমিশনার অফ রেলওয়ে সেফটি (সিআরএস)-এর চূড়ান্ত অনুমোদন বা ছাড়পত্র মিললেই চালক ছাড়াই যাত্রী নিয়ে ছুটবে মেট্রো। আপাতত গ্রিন লাইন অর্থাৎ হাওড়া ময়দান থেকে সল্টলেক সেক্টর ফাইভ রুটে এই অত্যাধুনিক পরিষেবা চালু হতে চলেছে।

গত রবিবার দুপুরে এই রুটে চালকহীন মেট্রোর পরীক্ষামূলক দৌড় এবং নিরাপত্তা পরিদর্শন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। গঙ্গার তলদেশের আন্ডারওয়াটার টানেলসহ পুরো রুটে জরুরি পরিস্থিতিতে ট্রেন পরিচালনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখেছে সিআরএস টিম। এখন শুধু আনুষ্ঠানিক সবুজ সংকেতের অপেক্ষা।

কেমন ছিল রবিবারের পরীক্ষা?

  • সফল ট্রায়াল রান: রবিবার একটি রেক হাওড়া ময়দান থেকে সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত চালকের সাহায্য ছাড়াই ছুটে যায়।

  • সময়সূচিতে বদল: সিআরএস পরিদর্শনের কারণে গত রবিবার গ্রিন লাইনে সকাল ৯টার বদলে বিকেল সাড়ে ৪টেয় প্রথম বাণিজ্যিক মেট্রো চালানো হয়েছিল।

  • জরুরি পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা: গঙ্গার নিচের সুড়ঙ্গ এবং রুটের ১২টি স্টেশনে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখা হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কের অপারেশন কন্ট্রোল রুম থেকে রিমোটের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

  • গতির রেকর্ড: গঙ্গার তলদেশের ৫২০ মিটার টানেল মাত্র ৪৫ সেকেন্ডে পার হওয়ার বিষয়টিও এদিনের পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে।

আধুনিক প্রযুক্তির ম্যাজিক: কী এই সিবিটিসি (CBTC)?

মেট্রো সূত্রে খবর, এই পুরো রুটটি অত্যন্ত আধুনিক কমিউনিকেশন-ভিত্তিক ট্রেন কন্ট্রোল সিগন্যালিং প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ট্রেন নিজে থেকেই গতি নিয়ন্ত্রণ ও ব্রেকিং করতে পারে।

কেবিনে কি চালক থাকবেন না? মেট্রো আধিকারিকদের মতে, এই প্রযুক্তি চালু হলে চালকের ভূমিকা কেবল ট্রেনের দরজা খোলা এবং বন্ধ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। তবে চালকহীন মেট্রো দেখে যাত্রীরা যাতে আতঙ্কিত না হয়ে পড়েন, তার জন্য সুরক্ষাকবচ হিসেবে কেবিনে চালক উপস্থিত থাকবেন। রবিবারের পরীক্ষামূলক দৌড়েও কেবিনে চালক ও অন্যান্য আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সব মিলিয়ে সিআরএস-এর ছাড়পত্র পেলেই কলকাতার মুকুটে জুড়তে চলেছে নতুন পালক। দেশের প্রথম নদীর তলদেশ দিয়ে মেট্রো চলাচলের পর, এবার চালকহীন মেট্রো চড়ার অপেক্ষায় দিন গুনছেন শহরবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *