‘মিশন সৌম্যজিৎ’-এ পাশে মুখ্যমন্ত্রী, পাঁচ বছরের শিশুর লিভার প্রতিস্থাপনে বড় আর্থিক সাহায্য শুভেন্দুর
কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: জন্ম থেকেই দুরারোগ্য ব্যাধি ‘সিরোসিস অব লিভার’-এ আক্রান্ত পাঁচ বছরের শিশু সৌম্যজিৎ পাল। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাকে বাঁচাতে দ্রুত লিভার প্রতিস্থাপন করা প্রয়োজন। কিন্তু নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে সেই বিপুল খরচের জোগান দেওয়া ছিল অসম্ভব। অবশেষে এই ছোট্ট শিশুর জীবন বাঁচাতে দেবদূতের মতো পাশে দাঁড়ালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকার আর্থিক সাহায্য পেয়ে নতুন করে বেঁচে থাকার আশায় বুক বাঁধছে শিশুটির পরিবার।
বিধাননগরের ‘মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে’ কান্নায় ভেঙে পড়া বাবার আর্তি
প্রতি শনিবারের মতো এদিনও বিধাননগরে সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ ও আবেদন শুনতে হাজির হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই উত্তর ২৪ পরগনার সুদূর বসিরহাট থেকে পাঁচ বছরের অসুস্থ ছেলেকে কোলে নিয়ে হাজির হন বাবা সঞ্জীব পাল। সঙ্গে ছিলেন ‘মিশন সৌম্যজিৎ’-এর প্রতিনিধিরা।
মুখ্যমন্ত্রীর কাছে উপস্থিত হয়ে সন্তানকে বাঁচানোর আকুল আর্জি জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত সহানুভূতির সঙ্গে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন এবং শিশুটির অসুস্থতার সমস্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখেন। এরপরই চিকিৎসার জন্য ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য মঞ্জুর করেন তিনি। জানানো হয়েছে, দিল্লির যে হাসপাতালে সৌম্যজিতের অস্ত্রোপচার হবে, সরাসরি সেই হাসপাতালেই এই টাকা পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজন ছিল ৩০ লক্ষ টাকা
সৌম্যজিতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দিল্লির হাসপাতালে তার লিভার প্রতিস্থাপনের জন্য মোট ৩০ লক্ষ টাকার প্রয়োজন। এত বিশাল অঙ্কের টাকা কীভাবে জোগাড় হবে, তা ভেবেই মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছিল পরিবারের।
-
মোট প্রয়োজনীয় অর্থ: ৩০ লক্ষ টাকা
-
জনসাধারণ ও বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে সংগৃহীত: ১৫ লক্ষ টাকা
-
মুখ্যমন্ত্রীর তহবিল থেকে সাহায্য: ১০ লক্ষ টাকা
-
বাকি প্রয়োজনীয় অর্থ: ৫ লক্ষ টাকা
বাকি ৫ লক্ষ টাকা সংগ্রহের জন্য ইতিমধ্যেই পুনরায় কাজ শুরু করা হয়েছে বলে পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে।
“মুখ্যমন্ত্রী আশাহত করেননি”, চোখে জল কৃতজ্ঞ বাবার
মুখ্যমন্ত্রীর এই মানবিক পদক্ষেপে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে পরিবারটি। চাক্ষুষ সাহায্য পেয়ে আবেগাপ্লুত বাবা সঞ্জীব পাল মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন: “জানতাম মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে খালি হাতে ফিরব না, তিনি আশাহত করবেন না। শুভেন্দু বাবু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় ছেলেকে সুস্থ করে বাড়ি ফিরিয়ে আনার সাহস পাচ্ছি।” মুখ্যমন্ত্রীর এই ত্বরিত সিদ্ধান্তের ফলে দিল্লির হাসপাতালে সৌম্যজিতের অস্ত্রোপচারের প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হতে চলেছে। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের এই মানবিক রূপ এখন প্রশংসিত হচ্ছে সব মহলে।
