আজকের দিনেখেলা

বিশ্বকাপে নকআউটে জয়ের উৎসবে মর্মান্তিক মৃত্যু, মেক্সিকোয় দমবন্ধ হয়ে প্রাণ গেল ৩ সমর্থকের

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, নিউজ ডেস্ক:- ৪০ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউটে জয় পেল মেক্সিকো। ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারানোর পর উৎসবে মাতে গোটা মেক্সিকো সিটি। কিন্তু ‘অ্যাঞ্জেল অফ ইন্ডিপেন্ডেন্স’ এলাকায় ভিড়ের চাপে দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয় তিন সমর্থকের। বুধবার ভোরে ঘটে এই দুর্ঘটনা।

বুধবার ভোরে অ্যাজ়‌টেকা স্টেডিয়ামে শেষ ৩২-এর ম্যাচে ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারায় মেক্সিকো। ১৯৮৬ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয় পেল দেশটি। ঐতিহাসিক এই জয়ের খবর ছড়িয়ে পড়তেই মেক্সিকো সিটির রাস্তায় নামে জনস্রোত। বিশেষ করে পাসেয়ো দে লা রিফর্মা অ্যাভিনিউয়ের ‘অ্যাঞ্জেল অফ ইন্ডিপেন্ডেন্স’ স্মৃতিস্তম্ভের সামনে জড়ো হন হাজার হাজার উচ্ছ্বসিত সমর্থক।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ১টা থেকে ভিড় বাড়তে থাকে। ভোর ৪টে নাগাদ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বাজি, পতাকা, ব্যান্ডের শব্দে গোটা এলাকা উৎসবের চেহারা নেয়। কিন্তু জায়গাটি ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি মানুষ ঢুকে পড়ায় তৈরি হয় শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা। অনেকেই ভিড়ের মধ্যে আটকে পড়ে ছটফট করতে থাকেন।

শহরের স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, পাসেয়ো দে লা রিফর্মার তিনটি আলাদা পয়েন্ট থেকে তিন জনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ৪৪ বছরের কার্লোস মেন্ডেজ ও ১৯ বছরের কলেজছাত্রী সোফিয়া রামিরেজকে ঘটনাস্থলেই CPR দেওয়া হয়। অ্যাম্বুলেন্সে তোলার পর কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস চালু রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করেন চিকিৎসকরা। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। কিছুক্ষণ পর ৪৮ বছরের গৃহবধূ মারিয়া গঞ্জালেজকে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনিও হাসপাতালে যাওয়ার পথে মারা যান।

মেক্সিকো সিটির মেয়র ক্লাবা ব্রুগাদা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি মৃতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, “জয়ের আনন্দ যেন কারও জীবনের বিনিময়ে না আসে। সমর্থকদের অনুরোধ, উৎসব করুন, কিন্তু দায়িত্ব ও সংযম নিয়ে।” প্রশাসন জানিয়েছে, প্রায় দু’কোটি মানুষের এই মেগাসিটিতে যে কোনও বড় সাফল্যের পর ‘অ্যাঞ্জেল অফ ইন্ডিপেন্ডেন্স’ চত্বরই উৎসবের কেন্দ্র হয়ে ওঠে। এদিন নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন থাকলেও আচমকা জনস্ফীতি সামাল দেওয়া যায়নি। ঘটনার পর গোটা এলাকা খালি করে দেয় পুলিশ। আহত আরও ১২ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

মেক্সিকোর ফুটবল ফেডারেশনও শোকপ্রকাশ করেছে। জাতীয় দলের কোচ লেখেন, “এই জয় আমরা ওই তিন সমর্থককে উৎসর্গ করলাম। ওঁরা চিরকাল আমাদের হৃদয়ে থাকবেন।”

৪০ বছরের খরা কাটিয়ে নকআউটে জয় মেক্সিকোর ফুটবল ইতিহাসে সোনালি অধ্যায় হয়ে থাকবে। কিন্তু উৎসবের ভিড়ে তিনটি তরতাজা প্রাণের অকালমৃত্যু সেই আনন্দকে ম্লান করে দিল। এই ঘটনা ফের মনে করিয়ে দিল, বড় জমায়েতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত প্রস্থানপথ ও জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা কতটা জরুরি। প্রশাসনের পাশাপাশি উৎসবে মেতে ওঠা মানুষকেও সচেতন ও সংযত থাকতে হবে, যাতে জয়ের রং কখনও শোকের কালো না হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *