আজকের দিনেতিলোত্তমা

এখনই আসছে না ইউসিসি, বঙ্গে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে সতর্ক শুভেন্দু সরকার

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা,কলকাতা: রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই ‘এক দেশ, এক আইন’ বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল আনা নিয়ে তৎপরতা শুরু করেছিল শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। সোমবারই বিধানসভায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বিলটি পেশ হওয়ার জোর সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংবেদনশীলতার কথা মাথায় রেখে পিছু হঠল সরকার পক্ষ। এখনই তড়িঘড়ি বিল পেশ না করে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগোনোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবান্ন।

কেন পিছিয়ে গেল বিল?

সরকারি সূত্রে খবর, অভিন্ন দেওয়ানি বিধির বিভিন্ন ধারা ও উপধারা নিয়ে আরও বিশদ এবং গভীর আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছে সরকার। পশ্চিমবঙ্গের জনবিন্যাস এবং সামাজিক প্রেক্ষাপট দেশের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় অনেকটাই আলাদা। ফলে এই বিল আনার ক্ষেত্রে বেশ কিছু জটিলতা ও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতে পারে। তড়িঘড়ি কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে সমাজের সব সম্প্রদায়ের মানুষের মতামত গ্রহণ করে, সব দিক খুঁটিয়ে দেখেই বিলটি বিধানসভায় আনতে চায় শাসক দল।

রঞ্জনপ্রসাদ দেশাইয়ের ওপরই ভরসা!

বিলটির চুলচেরা বিশ্লেষণের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করতে চলেছে রাজ্য সরকার। সূত্রের খবর, এই কমিটির শীর্ষে রাখা হতে পারে সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জনপ্রসাদ দেশাইকে।

উল্লেখ্য, দেশের প্রথম রাজ্য হিসেবে যখন উত্তরাখণ্ডে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি লাগু করা হয়েছিল, তখনও খসড়া কমিটির খুঁটিনাটি পর্যালোচনার মূল দায়িত্বে ছিলেন এই বিচারপতি রঞ্জনপ্রসাদ দেশাই-ই। উত্তরাখণ্ডের সেই অভিজ্ঞতাকে এবার বাংলাতেও কাজে লাগাতে চাইছে শুভেন্দুর সরকার। এ রাজ্যের উপযোগী একটি বিল তৈরিতে তাঁর আইনি ও সামাজিক পরামর্শ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সোমবারই চূড়ান্ত স্তরের আলোচনা:

জানা গেছে, এই কমিটি গঠন নিয়ে বিচারপতি দেশাইয়ের সঙ্গে রাজ্য সরকারের প্রাথমিক স্তরের কথাবার্তা ইতিপূর্বেই হয়ে গেছে। সোমবার এই বিষয়ে আরও একদফা উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সেই আলোচনার পরই কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হতে পারে।

এদিকে, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিলটি আজ পেশ না হলেও, সোমবার রাজ্য বিধানসভায় অন্যান্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ ও পাস হয়েছে বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ইউসিসি-র মতো স্পর্শকাতর বিল নিয়ে সরকার যেভাবে ধীরে চলো নীতি নিল, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং রাজনৈতিকভাবে সুদূরপ্রসারী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *