আজকের দিনেতিলোত্তমা

গড়িয়াহাট বাজারে আচমকা ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’ পুরমন্ত্রীর

ভালোবাসা ছড়িয়ে দাও

কিউ ইন্ডিয়া বাংলা, কলকাতা: সপ্তাহের শুরুতেই সাতসকালে গড়িয়াহাট বাজারে আচমকা হাজির পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। গত দু’দিনের জামাইষষ্ঠীর ধকল কাটিয়ে সোমবার সকালে বাজারে ভিড় যখন কিছুটা কম, ঠিক তখনই পুর দপ্তরের একঝাঁক আধিকারিককে সঙ্গে নিয়ে বাজারে ঢোকেন মন্ত্রী। মন্ত্রীকে অতর্কিতে বাজারে ঢুকতে দেখে স্বভাবতই ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মধ্যে শোরগোল পড়ে যায়।
​এদিন বাজারের প্রতিটি দোকান ঘুরে দেখেন পুরমন্ত্রী। তবে পরিদর্শনের শুরুতেই বাজারের অপরিচ্ছন্নতা দেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। কার্যত ধমকের সুরেই ব্যবসায়ীদের স্বচ্ছতার পাঠ দিয়ে মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, নিজের দোকানের সামনের অংশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরই। সেখানে কোনো নোংরা বা আবর্জনা জমলে কড়া জরিমানা করা হবে।

অবৈধ সম্প্রসারণ ও পার্কিং রুখতে কড়া নির্দেশ
​বাজারের ভেতরে যত্রতত্র অবৈধ পার্কিং এবং দোকানের বেআইনি সম্প্রসারণ নিয়েও কড়া অবস্থান নেন অগ্নিমিত্রা পাল। বরাদ্দ জায়গার বাইরে যে সমস্ত ব্যবসায়ীরা দোকান বাড়িয়ে রেখেছেন, তাঁদের আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সেই বর্ধিত অংশ সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাজারের ভেতরে সাইকেল নিয়ে ঢোকা সম্পূর্ণ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়ে মন্ত্রী জানান, প্রতিটি বাজারের বাইরে নির্দিষ্ট সাইকেল স্ট্যান্ড করা হবে, যেখানে ক্রেতা ও বিক্রেতারা তাঁদের সাইকেল বা বাইক রাখতে পারবেন।

প্লাস্টিক বর্জনে অভিনব উদ্যোগ: বসবে ‘ব্যাগ ভেন্ডিং মেশিন’
​বাজারে প্লাস্টিক ব্যবহার রুখতে অত্যন্ত কড়া পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছেন পুরমন্ত্রী। তিনি সাফ জানান, বাজারে প্লাস্টিক ব্যবহার করলেই ২০০ টাকা জরিমানা করা হবে। তবে ক্রেতাদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে বাজারে বাজারে ‘ব্যাগ ভেন্ডিং মেশিন’ বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুর দপ্তর। কেউ বাড়ি থেকে ব্যাগ আনতে ভুলে গেলে, ওই মেশিন থেকে নির্দিষ্ট টাকা দিয়ে কাপড় বা চটের ব্যাগ কিনে নিতে পারবেন। এর পাশাপাশি রাস্তাঘাটে থুতু ফেলা, প্রস্রাব করা বা আবর্জনা ফেলার ক্ষেত্রেও জরিমানার নিয়ম কঠোরভাবে বলবৎ করার কথা স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

বাজারের ভোলবদল ও আধুনিকীকরণের রূপরেখা
​বাংলার মানুষের প্রতি নিজেদের দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “আজ গড়িয়াহাট দিয়ে শুরু করলাম, এরপর (কলকাতার) প্রত্যেকটা বাজারে যাওয়া হবে।” বাজারের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে একগুচ্ছ নতুন নির্দেশিকা জারি করেছেন মন্ত্রী:
​বাধ্যতামূলক ডাস্টবিন: প্রতিটি দোকানে ডাস্টবিন রাখা বাধ্যতামূলক। বিশেষ করে মাছ ও মাংসের দোকানদারদের পরিচ্ছন্নতায় বাড়তি নজর দিতে হবে।
নিয়মিত সাফাই: দিনে অন্তত তিনবার সাফাই কর্মীরা পুরো বাজার পরিষ্কার করবেন।
পরিকাঠামো উন্নয়ন: জল-কাদায় পিচ্ছিল মেঝেতে দুর্ঘটনা এড়াতে বড় বড় স্ল্যাব বসানো হবে। প্রতিটি দোকানের মাঝে নালা তৈরি হবে এবং মাছ-মাংসের দোকানের নালা প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হবে। এছাড়া সব বাজারে পুরুষ ও মহিলাদের জন্য পৃথক আধুনিক বাথরুম এবং শেডের ব্যবস্থা করবে পুর দপ্তর।
নিরাপত্তা: বাজারে কোনো ঝুলন্ত ত্রিপল রাখা যাবে না। অগ্নিকাণ্ড রুখতে ফায়ার ফাইটিং সিস্টেম বা অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে।
​সপ্তাহের প্রথম দিনেই পুরমন্ত্রীর এই কড়া ও তৎপর ভূমিকা শহরের বাজারগুলির ভোলবদল এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে অত্যন্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *